দুই দিনের সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট
-
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
দুই দিনের সরকারি সফর শেষে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস-বিমসটেক লিডারস আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
আজ (শনিবার) সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তাকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানবন্দরে শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শি জিনপিং। সেখানে তাকে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
সকাল ৯টা ৮ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান শি জিনপিং। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সেনাবাহিনীর নয় পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান জিনপিং। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। ওই সময় শি জিনপিং স্বাক্ষর করেন স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে। সেখানকার কার্যক্রম শেষে ঢাকায় ফেরার পথে স্মৃতিসৌধে রোপন করেন উদয়পদ্ম গাছের চারা। এরপর স্মৃতিসৌধ থেকে তিনি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।
২২ ঘণ্টার সফরে গতকাল শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চীনা প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। বিমানবন্দর থেকে শি জিনপিং হোটেল লা মেরিডিয়ানে যান। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন। সেখানে দুই নেতা বৈঠক করেন। এরপর দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দেন।
এরপর সেখান থেকে আবার হোটেলে ফেরেন তিনি। সেখানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে নৈশভোজে অংশ নেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
সফরে দু'দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে ১২টি ঋণ ও কাঠামো চুক্তি বাকিগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক। এছাড়া বেসরকারি খাতে ১৩ বিলিয়ন ডলারের ১৩টি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। দুই নেতাই বলেছেন, নিজেদের মধ্যকার বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, আজকে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উপনীত হয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ‘সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারত্বে’ নিয়ে যেতে রাজি হয়েছে।#
পার্সটুডে/এআর/১৫