ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ অবৈধ: চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচির সঙ্গে ওয়াং ই
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচির সঙ্গে আলোচনাকালে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধকে অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং সংঘাত শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন।
আজ (বুধবার) বেইজিংয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং বিদ্যমান চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি অন্যতম। এরপর তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চীন প্রস্তুত। এ মুহূর্তে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘সংকটপূর্ণ মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়া প্রয়োজন।
আরাকচি চীনকে 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে ইরানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "নতুন পরিস্থিতিতেও আমাদের কৌশলগত সহযোগিতা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে অব্যাহত থাকবে।"
ইরানি মন্ত্রী 'ওয়াং ই'কে ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ এবং মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বেইজিংয়ের নৈতিক অবস্থান এবং নিরাপত্তা পরিষদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে চীনের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি পদে চীনের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে আরাকচি আশা প্রকাশ করেন, বেইজিংয়ের কার্যকর ভূমিকার ফলে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার আরও লঙ্ঘন রোধে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
কূটনীতি প্রসঙ্গে আরাকচি চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াং ইকে জানান, যার মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-মার্কিন আলোচনাও রয়েছে। ইরান নিজেকে রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথেও তারা সমানভাবে গুরুত্বের সঙ্গে ও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াং ই ইরানি জনগণের প্রতিরোধ এবং ইরানের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন, বিশেষ করে আরাকচির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন যা পরিস্থিতির অবনতি রোধে ভূমিকা রেখেছে। তিনি ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
ওয়াং বলেন, "শক্তি প্রয়োগ এবং এই অবৈধ যুদ্ধের ধারাবাহিকতার বিরোধিতা করা চীনের নীতি। এই যুদ্ধের ক্ষতিকর পরিণতি শুধু ইরানের ওপরই পড়ছে না, বরং এই অঞ্চল ও বিশ্বের সকল জাতি ও জনগণের ওপরই পড়ছে।"
তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি চার-দফা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন যা যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত সমাপ্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত। তিনি কূটনীতি ও সংলাপের প্রতি বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থনের ওপর জোর দেন।
উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/৬