পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন দলের লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (শনিবার) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর সংক্ষিপ্ত অভ্যর্থনা ভাষণে তিনি সম্মেলনে কাউন্সিলর, দেশি-বিদেশিসহ আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি ২০তম জাতীয় সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সম্মেলন সফল হোক। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।'
এরপর প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন সঞ্চালনার জন্য ড. হাছান মাহমুদ ও অসিম কুমার উকিলকে দায়িত্ব দেন।

এরআগে সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলন মঞ্চে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আগতরা প্রধানমন্ত্রীকে স্লোগানে স্লোগানে শুভেচ্ছা জানান। মঞ্চে ঘুরে তিনিও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
সম্মেলন উদ্বোধনের পর 'আলোর অভিযাত্রা' শিরোনামে দলীয় সঙ্গীত ও সমবেত নৃত্য পরিবেশ করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী সাঈদুল ইসলাম। তার পরেই গীতা থেকে পাঠ করা হয়।
কঠোর নিরাপত্তা
আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে ঘিরে রাজধানীতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলন স্থলসহ আশপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
কাউন্সিলরদের দেয়া ব্যাজ ও কার্ডধারী ব্যক্তি ছাড়া সম্মেলন স্থলে অন্য কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তল্লাশির মধ্য দিয়ে সারিবদ্ধভাবে কাউন্সিলররা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন।
২ দিনে ৪ সেশন
সম্মেলনে আজ ২টি এবং আগামীকাল রোববার ২টি- মোট ৪টি সেশন হবে। এবারের সম্মেলনের স্লোগান হচ্ছে- “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।” সম্মেলনের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
আধুনিকতা ও প্রযুক্তির মিশেলে বিশাল মঞ্চ
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে নৌকাসদৃশ বিশাল মঞ্চ, যা সাজানো হয়েছে আধুনিকতা আর প্রযুক্তির মিশেলে। সমুদ্রে ভাসমান নৌকার মতো দেখতে এ মঞ্চ ভূমি থেকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচুতে। মঞ্চের প্রথম সারিতে আছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের আসন।
দ্বিতীয় সারিতে বসবেন ৫৮ জন। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের সামনের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে স্বচ্ছ কাচের খুঁটিবিহীন একটি গ্যালারি। সেখানে ৭ হাজার অতিথির আসন থাকবে।
নবরূপে ঢাকা
এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাকে সাজানো হয়েছে নবরূপে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। সম্মেলনে যাওয়ার পথে উদ্যানের রাস্তাগুলোয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকাকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও। সন্ধ্যা হলেই শহর-বন্দরে জ্বলে উঠছে লাল-নীল আলো। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সুদৃশ্য তোরণ। এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ৬ হাজার ৭০০ জন কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেট।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় আওয়ামী মুসলিম লীগের। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার ধারাবাহিকতায় পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি দলের নাম থেকে বাদ দেয়া হয়। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ১৯টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯তম জাতীয় সম্মেলন ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।#
পার্সটুডে/এআর/২২