আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে: বিএনপি
-
বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নীতি গ্রহণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে। এদেশে হিন্দুদের ওপর যত আক্রমণ, সম্পত্তি দখল ও দেবালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে।"
রিজভী আরও বলেন, "২০১৩ সালে মুক্তগাছায় হিন্দু বাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়, সিলেটে মন্দিরে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে এক আওয়ামী লীগ নেতা। একই সালে পাবনার সাথিয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রশ্রয়দাতা হিসেবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে দেশের মানুষ সোচ্চার হয়। এছাড়া ওই বছর অসংখ্য হিন্দুদের এলাকা, বাড়ীঘর, সহায়-সম্পত্তির ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ফরিদপুরে হিন্দুদের জায়গা দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে একজন দোর্দণ্ড প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্দেশে প্রবীর শিকদার নামে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এছাড়াও কক্সবাজারের উখিয়া, রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যাপক হামলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণে তাদের সম্পত্তি দখল, লুটপাট, মঠমন্দির ভাংচুর, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ সকল অপকর্মের হোতা হচ্ছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আশ্রিত লোকেরা।"
রিজভী বলেন, "কয়েকদিন আগে গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের গুলি ও পিটিয়ে চারজন সাঁওতাল আদিবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা কেবল বর্বরোচিত ও অমানবিকই নয়, এটি শাসকগোষ্ঠীর পশুপ্রবৃত্তির এক নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা নিহতদের পরিবার পরিজনকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিচার দাবি করছি।"
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।#