বিএনপির নিরুত্তাপ বিক্ষোভ, পুলিশি বাধার অভিযোগ রিজভীর
-
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
আজ (রোববার) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা ও তাণ্ডব চালিয়েছে, ব্যাপকভাবে বাধা দিয়েছে। গতকাল থেকে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দেয় এবং অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচির কথা শুনলেই ক্ষমতাসীনদের মসনদ কেঁপে ওঠে। কারণ, জনগণই তাদের মূল আতঙ্ক। জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে জনগণকে তাদের এত ভয়। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সভা-সমাবেশের ওপর হামলা ও বাধা দেয়ার ঘটনায় তারা জনগণের কাছে ক্রমাগত নিন্দিত ও ধিক্কৃত হচ্ছে।
এদিকে, আজ (রোববার) সারা দেশে বিএনপি’র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি নিরুত্তাপভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও তেমন একটা বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় নি। বেশীরভাগ স্থানেই পুলিশের বাধার কারণে কর্মসূচি পালন করতে পারে নি বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা।
চলতি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে বিএনপি ঘোষিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এর কর্মসূচিতে বাধা এবং ৭ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আজ এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় শহর ও রাজধানীর প্রতিটি থানায়।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। রিজভী যখন সংবাদ সম্মেলন করছিলেন তখন বিএনপির কার্যালয়টি ঘিরে রেখেছিলো কয়েক প্লাটুন পুলিশ ও র্যাব। সকাল থেকেই কার্যালয়টির সামনে জলকামান, পুলিশ ভ্যান ও সাঁজোয়া যান দিয়ে অবরোধ করে রাখা হয়।
ওদিকে, সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে শনিবার রাতে পটুয়াখালীতে দলটির দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম। শনিবার রাতে শহরের বাসা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে সদর থানার ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম জানান।
তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনার তৈরির অভিযোগ রয়েছে বলে ওসি জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ রব মিয়ার অভিযোগ, তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই তাদের দুই নেতাকে পুলিশ আটক করেছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে রোববার দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনসহ আরো নেতাকর্মী।
বিএনপি’কে সভা সমাবেশ না করতে দেয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ শনিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানান, ‘বিএনপি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। এ তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে আছে বলেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হয় হয়নি।’
ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সভা-সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার, এ অধিকার সবারই রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মতো জঙ্গিবাদী সংগঠন আছে। তারা কর্মসূচির নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বোমাবাজি, বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর করে। এ কারণেই হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮