প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আত্মতুষ্টি ও আত্মস্তুতিতে ভরা, দেশবাসী সম্পূর্ণ হতাশ: বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i30805-প্রধানমন্ত্রীর_ভাষণ_আত্মতুষ্টি_ও_আত্মস্তুতিতে_ভরা_দেশবাসী_সম্পূর্ণ_হতাশ_বিএনপি
জাতির উদ্দেশে দেয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস না থাকায় দেশবাসী ‘সম্পূর্ণ হতাশ’ হয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০১৭ ২২:২৬ Asia/Dhaka
  • বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জাতির উদ্দেশে দেয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস না থাকায় দেশবাসী ‘সম্পূর্ণ হতাশ’ হয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আজ রাতে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর এ ভাষণটি একেবারেই গতানুগতিক। আত্মতুষ্টি ও আত্মস্তুতিতে ভরা। উন্নয়নের যে ফিরিস্তি তিনি তাঁর ভাষণে দিয়েছেন তার অনেক কিছুই ভুল, অসত্য, ভিত্তিহীন এবং এতে রয়েছে এন্তার শুভংকরের ফাঁক। দেশের মানুষ তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় বুঝেন দেশ উন্নয়ন নাকি অবনতির পথে এগুচ্ছে।

সরকার একটি ধারাবাহিকতা। বৈধ কিংবা অবৈধ সব সরকারকেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কিছু কাজ করতে হয়। কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হয়। জাতীয় উন্নয়নের চিত্র হিসেবে সে সবের ফিরিস্তি দিলে মানুষ হতাশ হয় বলে আমরা মনে করি। একতরফা দোষারোপের মাধ্যমে তাঁর ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে অগণতান্ত্রিক ও একদলীয় মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘হামলা-মামলা, জেল-জুলুমে বিপর্যস্ত বিরোধী দলগুলো সব গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ডেমোক্রেটিক স্পেস প্রতিদিন সংকুচিত হচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন অবাধে চলছে। ব্যাংকগুলো ও শেয়ারবাজার লুট হয়ে গেছে। জনজীবনে নিরাপত্তা নেই, সুবিচার ও আইনের শাসন নেই, শিক্ষার মান নেমে গেছে। আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। শিশুদের পাঠ্যপুস্তক ভুলে ভরা। গুম, খুন, অপহরণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ নিত্যকার ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী সবকিছু সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ও শাসক দলীয় সন্ত্রাসে সারা দেশে আজ ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের কর্মসূচিতেও তারা একের পর এক হামলা ও অন্তর্ঘাতের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী এর জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। সরকারের বৈধতা ও নৈতিকতার সংকট দেশের প্রধান সমস্যা। অথচ প্রধান সেই রাজনৈতিক সংকট তিনি এড়িয়ে গেছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সবার আশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তা না থাকায় এ বক্তব্য সময়ের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়ায় আমি বলতে চাই, দেশবাসী এ ভাষণে সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছেন, আমরাও হতাশ হয়েছি। গণতন্ত্র ও সমঝোতার পক্ষে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।’  

সরকারের তিন বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তিনি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনকারী বিএনপির সমালোচনা করেন।

সরকারের মেয়াদ শেষেই একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের চলমান সংলাপের উদ‌্যোগের মধ‌্য দিয়ে গঠিত ইসির অধীনে সব দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।#

পার্সটুডে/এআর/১৩