মিয়ানমারের রাখাইনে আবারও সেনা অভিযান; নির্যাতিত হচ্ছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i44332-মিয়ানমারের_রাখাইনে_আবারও_সেনা_অভিযান_নির্যাতিত_হচ্ছেন_রোহিঙ্গা_মুসলিমরা
মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে কথিত মুসলিম বিদ্রোহী এবং বিচ্ছিন্নতাকামীদের নির্মূল করতে সার্জিক্যাল অপারেশন শুরু করেছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। এদিকে রাখাইনের অভিযান থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে আশ্রয়প্রার্থী হয়ে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ১৭, ২০১৭ ১৩:৪৩ Asia/Dhaka

মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে কথিত মুসলিম বিদ্রোহী এবং বিচ্ছিন্নতাকামীদের নির্মূল করতে সার্জিক্যাল অপারেশন শুরু করেছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। এদিকে রাখাইনের অভিযান থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে আশ্রয়প্রার্থী হয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, গত ক’দিনে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা পাঁচদিন আগে জানিয়েছিল, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে নতুন করে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানকার সেনা-নিয়ন্ত্রিত সরকার। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছিল, নতুন করে অভিযান চালানোর স্বার্থে সেখানে মোতায়েনকৃত সেনার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এসব অভিযানে নতুন করে ৫০০-এর বেশি সৈন্য যোগ দিয়েছে।

সাউথ এশিয়া মনিটর-এর প্রতিবেদক ল্যারি জাগান জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার ৩৩তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সেনা মোতায়েন শুরু হয়। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও হেলিকপ্টারে করে এসব সৈন্যকে রাজ্যের রাজধানী সিত্তইতে নামানো হয়। পরদিন তাদেরকে মোতায়েন করা হয় মংডুতে। তারপর থেকেই তারা ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।

মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ

এদিকে, মংডুতে নতুন করে সেনা অভিযান প্রসঙ্গে  রোহিংগা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট- এর সাধারণ সম্পাদক জমিরউদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, তিন দিন আগে অন্য এলাকা থেকে ৫ শতাধিক সেনা সদস্য এনে অভিযান চালানো তিনটি এলাকায়। হঠাৎ করে গ্রাম ঘেরাও করে সব মানুষকে তারা একত্রিত করে নির্যাতন করে। ২০১২ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যের মুসলমানরা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন বলেই জানান তিনি।

সামরিক বাহিনীর অক্টোবর অভিযানে রাখাইনে পরিকল্পিত ধর্ষণ, খুন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমার। এ অবস্থায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলো। জাতিসংঘের আশঙ্কা, মিয়ানমার সেখানে ‘এথনিং ক্লিনজিং’ করতে পারে।

গত বছর অক্টোবরে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর সামরিক বাহিনী সাড়াসী অভিযান চালিয়েছিল। সেই দমন অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ আর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এ সময় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির

পরে ইউএনএইচসিআর-এর বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের যথাযথ সহায়তা না দিলে তারা আবারও নিপীড়িত হতে পারে। নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকার অবশ্য রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

অক্টোবরের অভিযান সত্ত্বেও ওই অঞ্চলে থেমে থেমে সহিংসতা চলছে। সরকারের দালাল সন্দেহে গ্রামে ডজনখানেক খুন এবং অপহরণের জন্য বিদ্রোহীদের অভিযানের অজুহাত হিসেবে হাজির করেছে মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সেদেশের আলাদা কোনও জাতিগোষ্ঠীই মনে করে না। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত ওই জনগোষ্ঠীকে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে দায়িত্ব অস্বীকার করতে চায়। তবে বংশ পরম্পরায় মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা নিজেদের সেখানকার নাগরিক বলেই জানে। নাগরিকত্বকে তারা অধিকার হিসেবেই দেখে। আর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে গিয়েও তারা পরিকল্পিত হামলার শিকার হচ্ছেন বলে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭