মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব বাংলাদেশের, ৬১৬ রোহিঙ্গাকে ফেরত
মিয়ানমার সীমান্তে ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’সহ কথিত সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠীর সদস্যদের ধরতে দুই দেশের যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রস্তাবের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিয়েছে মিয়ানমার।
আজ (সোমবার) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম ও বাংলাদেশে মিয়ানমারের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং মিন্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়।
প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, “এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে অনেকদিন ধরেই চিন্তাভাবনা চলছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এটি (প্রস্তাব) দেয়া হল। এ সময় মিয়ানমারের দূত যৌথ অপারেশন প্রস্তাবের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। প্রস্তাবের বিষয়টি তার সরকারের বিচেনায় উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার করে গেছেন।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, “বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের দূতকে বলা হয়, গত সপ্তাহে রাখাইনে মিয়ানমার পুলিশের ওপর হামলার যে ঘটনাটি ঘটেছে তা একান্তই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সঙ্গে ‘বাঙালি’ শব্দের ব্যবহার নিন্দনীয়, এটি অগ্রহণযোগ্য।”
গত শুক্রবার ভোররাতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায় এবং ওই হামলায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে দাবি করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই দেশটির সেনাবাহিনী পশ্চিম অঞ্চলের মংডু, বুতিডং এবং রাতেডং জেলাকে ঘিরে ফেলে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এতে কয়েকশ’ নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে বলে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে।
এদিকে, মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতায় ছড়িয়ে পড়ায় শনিবার থেকে রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এবার রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শনিবার থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৬১৬ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮