রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছি, মিয়ানমার সরকারকেও চাপ দিচ্ছি: শেখ হাসিনা
-
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোগানের সঙ্গে গণভবনে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়ের আশায় ছুটে আসছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের সহযোগিতা করতে। সাথে সাথে আমরা মিয়ানমার সরকারকেও চাপ দিচ্ছি। তাদের দেশের মানুষ যারা আমাদের দেশে আছে; তাদের যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেটাই আমরা চাই।”
রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মানতে মিয়ানমার সরকারের অনীহার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা বলেন, “এরা তাদেরই দেশের নাগরিক। তারা আজকে কেন অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকবে। কোনো দেশের মানুষ অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকা তো সে দেশের জন্য সম্মানজনক না। এটা মিয়ানমারকে উপলব্ধি করতে হবে। যারা আমাদের দেশে চলে এসে আশ্রয় চাচ্ছে; তাদের নিরাপত্তা দেওয়া উচিত, ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত.. তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত।”
মিয়ানমারে সংঘটিত ঘটনার জন্য বাংলাদেশের ভার বহনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই ৭৮ সাল থেকে রিফিউজি ঢুকছে। রেজিস্ট্রার যা আছে, তার থেকে আনরেজিস্ট্রার বেশি। মিয়ানমারে একেকটা ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে লোক চলে আসে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “সব থেকে মানবেতর অবস্থা হচ্ছে; এই নারী ও শিশুরা যে কষ্ট পাচ্ছে। দুধের শিশুরা মারা যাচ্ছে, নারীরা মারা যাচ্ছে। এটা শুনতেই কষ্ট লাগে। এটা সহ্য করা যায় না।”
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোগান। সাক্ষাৎকালে তিনি মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এদেশের জনগণের কাছেও কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ যে মানবিক আচরণ করেছে এর প্রশংসা করে ফার্স্ট লেডি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক মিলে এই সমস্যার সমাধান করবে। এছাড়া দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তারা পরস্পরে আলোচনা করেন। রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে ছুটে আসায় তুর্কি ফার্স্ট লেডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।
২৪ আগস্ট থেকে রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ। তারা সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে রোহিঙ্গা যুবকদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি। সেনাবাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাবে বলা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এআর/১৭