সু চির বক্তব্যে চালাকির আশ্রয়: মুফতি ফয়জুল্লাহ বললেন 'আরাকান স্বাধীন হবেই'
বিশ্বব্যাপী সমালোচনা আর তীব্র নিন্দার পর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চি আজ (মঙ্গলবার) জাতির উদ্দেশ্যে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই; যুদ্ধ চাই না।’
তবে সু চি তাঁর ভাষণে 'রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার করেন নি; রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের নিন্দাও জানান নি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে মার্যাদার সাথে পুনর্বাসনের কোনো আশ্বাসও দেন নি সু চি। উপরন্তু তাঁর দেশের সেনা প্রধানের সাথে সুর মিলিয়ে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারে জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রোহিঙ্গা নিধনে মিয়ানমারনের সেনাবাহিনীরর প্রতি সু চি’র সমর্থনের কারণে তার বিরুদ্ধে দেশে দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক পর্যায়ে, 'গণতন্ত্রের মানসকন্যা'-খ্যাত অং সান সু চি’র ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের জন্যে নোবেল কমিটির কাছে আবেদন করে চার লাখের বেশি মানুষ। আবেদনে সু চি’র ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হয়, “নিজের দেশে এমন মানবতা বিরোধী অপরাধ থামাতে মিয়ানমারে নেত্রী অং সান সু চি কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেননি।”
এ অবস্থায় আজ তাঁর ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর দায়িত্বে নিয়োজিত অং সান সু চি রাখাইন সংকট প্রসঙ্গে বলেছেন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। তাঁদের সব কথাই শুনতে হবে। কোনো ব্যবস্থা নেয়ার আগে অভিযোগগুলো যে তথ্য-প্রমাণনির্ভর, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সু চি আজ যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে মিয়ানমারে নিধনযজ্ঞ পরিচালনাকারী সামরিক বাহিনীর সমালোচনা তো দূরের কথা, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও নীরব থেকেছেন। কোনো কিছু না জানার ভান করে বলেছেন, “রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই।”
তবে, সেখানকার পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সু চি। একই সঙ্গে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ করবে বলেও অশ্বাস দেন তিনি।
সু চি বলেন, রাখাইন থেকে মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার খবরে তারা (সরকার) উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের সত্যাসত্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে জানান সু চি।
রোহিঙ্গা নিধনে তাঁর সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে সু চি’র দেয়া ভাষণের সমালোচনা করেছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, "অং সান সু চি যিনি এই নির্যাতনের হোতা, হত্যাকাণ্ডের হোতা, তিনি তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। ওনার সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও মগ দস্যুরা যেভাবে মুসলমানদেরকে নির্যাতন করছে এর জবাব তাকে (সু চি) আজ নয় কাল দিতেই হবে। তাকে মনে রাখতে হবে- আরাকান মুসলমানদের; মুসলমানদেরই থাকবে এবং আরাকান স্বাধীন হবেই।"
এদিকে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সংলাপ চায় চীন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বৈঠকে চীন এ তাগিদ দেয়।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘চীন চায় মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সংলাপ এবং সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করুক।
জাতিসংঘ মহাসচিবকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা ও যেকোনো সহিংস সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে দেশটির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে চীন। তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই রাখাইনের ‘সংঘাতের আগুন’ নিভে যাবে।।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯