সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে আ. লীগ, ইসিতে ১১ দফা
-
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের কাছে ১১ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।
আজ (বুধবার) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংলাপে বসেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই সংলাপ চলে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা ভোটে ইভিএম চালু করা, নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় করা, নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে সংবিধানে বর্ণিত নির্বাচনসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন।
তাছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব হলো- তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচন–পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে।
সেনা মোতায়েন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে, তা ১৮৯৮ সালে প্রনীত ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ইনএইড টু সিভিল পাওয়ার শিরোনামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
বিএনপি’র সাথে সংলাপে জিয়াউর রহমানকে 'বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা' বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ব্যাখ্যা পেয়েছি। বলতে চাই না। ব্যাখ্যা দিতে হলে নির্বাচন কমিশন দেবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য নির্বাচন কমিশনার ও সচিব সবার বক্তব্য ছিল ইতিবাচক। ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের শুরুতেই সিইসি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। আমরা অনেক দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকার–প্রধান করেছেন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।’
তিনি আওয়ামী লীগকে দেশের একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ দেশের প্রতিটি সফল আন্দোলনে দলটি অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮