বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে খালেদাই আদালতকে হেনস্তা করছেন: কাদের
-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ১৫০ বারেরও বেশি সময় নেওয়ার পাশাপাশি ৮ মাস মামলার বিচারকে বিলম্বিত করেছেন। এখন তিনিই হেনস্তার অভিযোগ করছেন। আসলে বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে তিনিই আদালতকে হেনস্তা করছেন।'
আজ (শুক্রবার) সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আওয়ামী লীগের সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গতকাল ঢাকার বিশেষ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, "জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থায়ন, পরিচালনা বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে আমার নিজের ব্যক্তিগতভাবে কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এখনো নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে।"
খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় আদালত চত্বরে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। এর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, "আমি জানতে চাই তিনি (খালেদা) কোন আইনে কোন নিয়মের বলে বার বার বিচারিক কার্যক্রমকে বিলম্বিত করছেন। আইনের প্রতি যদি শ্রদ্ধা থাকে তাহলে বিএনপির আইনজীবীরা কি করে আদালতে হাতাহাতি করেন। এই দল ক্ষমতায় গেলে কি হবে বুঝতেই পারছেন।"
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার সময় সংবর্ধণা দিতে নেতাকর্মীদের যে উপস্থিতি ছিল তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার সময় সংবর্ধণা দিতে আসা বেশি ছিল আমাদের নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। বিএনপির কর্মীরা রাস্তা দখল করে বিশৃঙ্খলা করেছে। এতে যে দুর্ভোগ হলো সেটা মিডিয়াতে তেমন একটা দেখলাম না। কোনো কোনো মিডিয়া এটা এড়িয়ে গেছে। অথচ আওয়ামী লীগের পান থেকে চুন খসলে ধরে বসে।"
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, "নির্বাচন কমিশনের সংলাপে আমরা কখনো বলিনি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যাবে না। আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে আইন অনুযায়ী সেনা মোতায়েন করতে চাইলে করবে।"
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনি এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা আছে শুধু তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তাদের সম্পর্কেও খোঁজ রাখা হচ্ছে।"
গুলশান-২ ইয়ুথক্লাবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একে এম রহমত উল্লাহ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০