রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্মত বাংলাদেশ-মিয়ানমার: দু মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i48875-রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসনে_সম্মত_বাংলাদেশ_মিয়ানমার_দু_মাসের_মধ্যে_প্রক্রিয়া_শুরু
রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মিয়ানমারের নেপিডোতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসেম সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি এ তথ্য জানান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নিতে দু দেশই সম্মত হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৫, ২০১৭ ১২:৫২ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি
    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি

রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মিয়ানমারের নেপিডোতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসেম সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি এ তথ্য জানান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নিতে দু দেশই সম্মত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দু'পক্ষের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে দু'দেশের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই সমঝোতায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কোনো তারিখ সুনির্দিষ্ট করা না হলেও আগামি দু'মাসের মধ্যে ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা  রয়েছে।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু

মিয়ানমারের ইচ্ছা অনুযায়ী ৯২'র চুক্তির অনুসরণে এবারের সমঝোতাটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলি। সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের অক্টোবর মাস এবং চলতি বছরের ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে,তাদেরকেই শুধু ফেরত নেয়া হবে। মিয়ানমারে ফেরার পর রোহিঙ্গা মুসলমানরা সরাসরি নিজেদের বাড়িতে না গিয়ে কিছুদিন আশ্রয়স্থলে থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মাঠপর্যায়ে আরেকটি চুক্তি সই হবে এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও মন্ত্রী জানান।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকের নজরদারির উপর গুরুত্বারোপ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র অড্রিয়ান অ্যাডওয়ার্ডস বলেছেন মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবাসনের নিরাপদ পরিবেশ এখনও তৈরি হয় নি।

তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারকের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানের রাখাইনে প্রত্যাবর্তন স্থায়ী, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছায় হওয়া উচিত।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেদেশের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধরা গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে কঠোর দমন পীড়ন চালায়। পাশবিক ওই নির্যাতনে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত এবং ৮ হাজারের বেশি আহত হয়। এ ছাড়াও প্রাণ বাঁচাতে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২৫