আমরা চাই বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হোক: ওবায়দুল কাদের
-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ (বুধবার) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি বলেছি- একমাস পর নির্বাচন হলেও আমরা প্রস্তুত। এটা শুধু তাই নয়, একমাস, তিনমাস ছয়মাস যখনই নির্বাচন হয়, তখনই আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত আছি। তবে আমরা চাই বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হোক।”
তিনি বলেন, “আমরা অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছি। এরই মধ্যে আমরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রার্থীর খসড়া তালিকা তৈরি করে ফেলেছি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) যখনই নির্বাচন দেবে, আমরা তখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি।”
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি বলছে একটা লোক মারা যাওয়ার পরপরই নির্বাচন করছে সরকার। নির্বাচন তো হতে হবে। তারা (বিএনপি) হয়তো প্রস্তুত নয়। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তারা আসেনি, নির্বাচন তো থেমে থাকেনি, থাকবেও না।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। কারণ, তারা আন্দোলন করতে পারছে না। গতকাল মঙ্গলবার কয়েক ডজন গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিএনপি পুলিশকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশকে উসকানি দিয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে সরকার কী করবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পরিস্থিতি যে রকম রূপ নেবে, সরকার সে রকম ব্যবস্থা নেবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি যেমন দৃশ্যমান হবে, তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন নিয়ম অনুযায়ীই হবে। এ নিয়ে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কাজ করার কিছু নেই। মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আইন আছে। কমিশন সে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন করবে। এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, “আমরা চমকের কথা ভাবছি না। আমরা উইনিবল প্রার্থীর কথা ভাবছি। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও আওয়ামী মনোভাবাসম্পন্ন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক কিন্তু নেতা নয়-এমন কয়েকজনকে নিয়েও আমরা চিন্তা করছি। চূড়ান্ত না হলে কিছু বলা যাবে না। সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ যিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন-এমন প্রার্থীর কথাই আমরা ভাবছি।”
আনিসুলের পরিবার থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আই এ্যাম কানেকটেড উইথ দ্যাট ফ্যামিলি। ফলে শোকাহত এ পরিবারকে আর আমরা বিব্রত করতে চাই না।”
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে আসিনুল হকের মৃত্যুর তিনদিনের মাথায় তার পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬