নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগই বেশি হতাশ: ওবায়দুল কাদের
-
ওবায়দুল কাদের
ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগই বেশি হতাশ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীর ক্লিন ইমেজ ছিল আর বিএনপি প্রার্থী প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। তাই এ নির্বাচনে শতভাগ বিজয়ের সম্ভাবনা আমাদের ছিল। তাই নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগই বেশি হতাশ। কিন্তু যারা বিরোধী দলে থাকেন তারা অনেক কথাই বলেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কুমিল্লা–নোয়াখালী সড়কের লাকসাম সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লার টমসন ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার মহাসড়কের কাজ চলছে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়ার জন্য বিএনপি নেতারা এখন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। তারা হাইকমান্ডকে খুশি করতে চান।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে যারা সন্ত্রাস করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ রয়েছে। বিষয়টি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদারকি করছেন। এ ঘটনা দলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ এ সরকারের আমলে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আমাদের দু’জন মন্ত্রী আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
বিএনপিকেই অভিযুক্ত করা উচিত: হানিফ
এদিকে, ডিএনসিসি নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, নির্বাচন স্থগিতের জন্য সরকারকে নয়, বিএনপিকেই অভিযুক্ত করা উচিত। কেননা নির্বাচন নিয়ে যে দু’জন আদালতে রিট করেছেন, তাদের একজন স্থানীয় বিএনপির নেতা।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কুষ্টিয়ার নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হানিফ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের ওপর আস্থাশীল। আশা করছি, দ্রুত এই রিট নিষ্পত্তি হয়ে নির্বাচন হবে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য মানুষ যাতে তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে পারে।
হানিফ বলেন, নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে যেকোনো জটিলতা নিরসন করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বা কোনও দলের কিছু করার নেই।
সভায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৮