মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা দিল বাংলাদেশ
-
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক
ঢাকা সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সি’র হাতে ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে কবে থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া শুরু হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ (শুক্রবার) বিকেলে সচিবালয়ে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল চিয়াও সোয়ের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বাধীন ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, 'অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারাও পজেটিভ মুড নিয়ে এসেছিলেন। আমরা ১১ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার লিস্ট করেছি, মিয়ানমার বলেছিল, ফ্যামিলি ওয়াইজ লিস্ট দিতে। সে অনুযায়ী আমরা আজকে এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা করে তাদের দিয়েছি। তারা (মিয়ানমার) এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে আমাদের জানাবেন। আর আমাদের যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ সেটার মিটিং যেভাবে চলছে, অব্যাহতভাবে চলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি তাঁরা যেভাবে আসছে, আমরাও গিয়েছিলাম, খুব শিগগিরই তাঁরা এ প্রক্রিয়াটা শুরু করবে। মিয়ানমার সীমান্তে যারা অবস্থান করছে এর জন্য আগামী ২০ তারিখ বৈঠক হবে। তাঁদের কীভাবে ফিরিয়ে নেয়া হবে ২০ তারিখে সেটার সিদ্ধান্ত হবে।’
এর আগে, শুক্রবার বেলা পৌনে ৩টায় মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনের সামনে তাকে সশস্ত্র সালাম জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল। পরে ৩টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক শুরু হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বৈঠক শেষ হওয়ার পর মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল সচিবালয় ত্যাগ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জে. কিউ সি। রাতেই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে আলোচনায়ও পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তার তার দেশের ‘আগ্রহের’ কথা জানান মিয়ানমারের এই সেনা কর্মকর্তা।
গত বছরের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সরকারের হিসেব অনুযায়ী আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৯ লাখেরও বেশি। কক্সবাজারের উখিয়া ও বালুখালীতে দুইটি আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছে এসব রোহিঙ্গা।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬