ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা দিতে ইউনিসেফের আহ্বান ও প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i53585-ঘূর্ণিঝড়_মৌসুমে_রোহিঙ্গা_শিশুদের_সহায়তা_দিতে_ইউনিসেফের_আহ্বান_ও_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে হুমকিতে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা করতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ ১৭:০৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে হুমকিতে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা করতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ বলেছে, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে সৃষ্ট বন্যায় জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো প্লাবিত হতে পারে; পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটতে পারে।  আর তেমনটা হলে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাবের ফলে স্বাস্থ্যসেবা  ক্লিনিক, শিশু-শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশুদের জন্য চালু করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আনুমানিক প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু রয়েছে, যারা গত বছর ও তার আগে বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা-স্রোতের সঙ্গে চলে আসে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিজেদের ঘর-বাড়ি ও সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়া রোহিঙ্গারা এখন ভাসমান সম্প্রদায়ের মানুষস্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে নতুন করে হুমকির মুখোমুখি হওয়া এই মানুষগুলো তাদের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। জাতিসংঘের শিশু ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের জরুরি কর্মসূচির পরিচালক ম্যানুয়েল ফন্টেইন মন্তব্য করেছেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্ব, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগসহ একটি সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ সৃষ্টি না ওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাড়ি ফিরে যাবে না

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত আবুল কাসেম রেডিও তেহরানকে বলেন, "ক্যাম্পের মধ্যে যা থাকছে, যা পাচ্ছে তাই খাচ্ছে। কোন কাজকর্ম নাই আয় নাই। স্থানীয় ভাষা জানা নেই বলে ডাক্তারের কাছে রোগ-শোকের কথা বুঝিয়ে বলতে পারে না। তাছাড়া মিয়ানমারে এখনো হত্যা, অগ্নিসংযোগ, বাড়ীঘর থেকে উচ্ছেদ চলছে। এখনো সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে। এ অবস্থায় সেখানে তারা কী ভাবে ফেরত যাবে?"  ওদিকে, মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস জাতি নিধনের চিহ্ন মুছে দিচ্ছে মিয়ানমার। এর মধ্য দিয়ে তারা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

২০১৭ সালের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ এক সহিংসতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা হত্যা করে রোহিঙ্গাদের। পুড়িয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। এসবের মাধ্যমে তারা জোর করে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করে। এরই মধ্যে স্যাটেলাইটে ধারণ করা সেখানকার ছবি প্রকাশ করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে দেখা যায়, মিয়ানমার তাদের অপরাধ ঢেকে দিচ্ছে আগুনে ভষ্মীভূত গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে । আর  সে সব ধংসস্তুপ এখন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সমান করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা বিদেশী সাংবাদিকদের অনুমতি দেয় নি মিয়ানমার। এখন মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাগণ ধংষযজ্ঞের প্রমাণকে তাড়াতাড়ি মুছে দেয়ার জন্য বুলডোজার ব্যবহার  করছেন, যাতে তাদের বিরুদ্ধে মানবতার অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কোনোদিন কোনো বিচার হতে না পারে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৫