মাহমুদুল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। শেষ ওভারের এক বল বাকি থাকতেই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদুল্লাহ। রোববার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
আজ (শুক্রবার) নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৫৯ রানের পুঁজি জমা করেছে লঙ্কানরা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতে শ্রীলঙ্কাও অবশ্য পড়েছিল ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। মাত্র ৪১ রান সংগ্রহ করতেই হারিয়েছিল ৫টি উইকেট। তবে ঘুরে দাঁড়ানো ব্যাটিংয়ে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ উপহার দেন কুশল পেরেরা ও থিসারা পেরেরা। ১৯তম ওভারে থামেন ওয়ানডাউনে নামা কুশল পেরেরা। তার ৪০ বলে ৬১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসটিতে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছক্কার মার। শেষ ওভারে ফেরেন থিসারা পেরেরা। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩টি করে চার-ছক্কার সাহায্যে করেন ৩৭ বলে ৫৮।
ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ৪, কুশল মেন্ডিস ১১, উপুল থারাঙ্গা ৫ (রানআউট), দাসুন শানাকা (০), জীবন মেন্ডিস (৩) রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ইসুরু উদানা ৭ ও আকিলা ধনাঞ্জয়া ১ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজ ২টি, সাকিব, রুবেল, মিরাজ ও সৌম্য ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম চার ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস ও সাব্বির রহমান। দ্বিতীয় ওভারেই লিটন দাসের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ধনঞ্জয়। রানের খাতা না খুলেই ফিরে যেতে হয়েছে লিটনকে। নিজের পরের ওভারে সাব্বিরকেও স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেছেন ধনঞ্জয়। তবে তৃতীয় উইকেটে ৬৪ উইকেটের জুটি গড়ে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন তামিম ও মুশফিক। কিন্তু এই আশার আলো বেশিক্ষণ থাকেনি। পর পর দুই ওভারে দুজই ফিরে যান। এর পর সাজঘরে ফিরে সৌম্য সরকারও।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। দ্বিতীয় বলে রানআউট হয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান। স্ট্রাইকে থাকার কথা মাহমুদুল্লাহর। কিন্তু আম্পায়ার তাকে স্ট্রাইকে দেবেন না। এ নিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মাহমুদুল্লাহ আর রুবেলকে উঠে আসতে বললেন।
আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারিসহ অন্য কর্মকর্তারা থামালেন। স্ট্রাইকে থাকলেন মাহমুদুল্লাহই। তৃতীয় বলেই মারলেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে দুই রান। আর প্রয়োজন ৬ রান। পঞ্চম বলে ইসুরু আদানাকে ছক্কা মেরেই বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রিয়াদ।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ধনঞ্জয়া ২টি, আপোন্সো, গুনাথিলাকা, মেন্ডিস ও উদানা প্রত্যেকেই ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
১৮ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৪৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬