রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ অনুকূল নয়: উরসুলা মুয়েলার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i55516-রোহিঙ্গাদের_মিয়ানমারে_প্রত্যাবাসনের_পরিবেশ_অনুকূল_নয়_উরসুলা_মুয়েলার
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সেখানে ‘অনুকূল নয় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সহকারী মহাসচিব উরসুলা মুয়েলার। তিনি আজ (রোববার) এ তথ্য জানিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
এপ্রিল ০৮, ২০১৮ ১৫:১৭ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সহকারী মহাসচিব উরসুলা মুয়েলার
    জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সহকারী মহাসচিব উরসুলা মুয়েলার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সেখানে ‘অনুকূল নয় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের সহকারী মহাসচিব উরসুলা মুয়েলার। তিনি আজ (রোববার) এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছর আগস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার জের ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে মিয়ানমার। তবে এখনো পর্যন্ত মিয়ানমার কোনো রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয় নি বা এ সংক্রান্ত কাজও  শুরু করে নি।

মিয়ান থেকে আসা রোহিঙ্গা মুসলমান

মিয়ানমার অবশ্য বারবার জানিয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কাজে  নিয়োজিত    সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক অং তুন থেট বলেছেন, ‘আমরা প্রস্তুত। ভবনগুলো প্রস্তুত। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো প্রস্তুত রয়েছে। আমরা যতুটুকু পেরেছি তা করেছি। তারা যদি নিরাপদ বোধ না করে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই।’

জাতিসংঘ কর্মকর্তা উরসুলা মুয়েলার বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে স্বেচ্ছামূলক, সম্মানজনক ও দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ অনুকূল নয়। ছয় দিনের মিয়ানমার সফর শেষে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া , সামাজিক সংযোগ, জীবনযাত্রা ও চাকরির সুযোগের মতো জটিল ইস্যুর সমাধান করতে হবে।’

অন্যদিকে,  আন্দামান সাগরে আরও রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা থাকতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির এই সতর্কতা দেওয়ার দিনেই ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ থেকে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় পাঁচ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রের বরাতে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে খাবার ও পানি সংকটে থাকা বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা সাগরে ভাসছে।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও অনেকেই  থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছে ।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকেও অনেকে সাগর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে বিভিন্ন দাতা সংস্থা।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, সাগরে ভাসতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আশা করছি তাদের দ্রুত উদ্ধার করা হবে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৮