রোহিঙ্গাদের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ: শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে সরকারের সকল পদক্ষেপের প্রতি স্থানীয় জনগণ সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে।
'রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার'
এদিকে, মর্যাদা-অবস্থান নির্বিশেষে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। সবশেষ রোহিঙ্গা সংকটে বিষয়টি আবারও প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের কূটনীতিক মাসুদ বিন মোমেন।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা’ বিষয়ে উন্মুক্ত বিতর্ক চলাকালে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
এদিকে, আজ (বুধবার) সকালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইউএনএফপিএ’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নাতালিয়া ক্যানেম তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান, তার সরকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় প্রদান করেছে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণেরও এ ধরনের শরণার্থী হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের সবরকম সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করেছে।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, সরকার যদিও তাদের অবস্থানকে স্বস্তিদায়ক করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তথাপি রোহিঙ্গারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খুবই অমানবিকভাবে অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৬০টি শিশুর সেখানে জন্ম হচ্ছে এবং বর্ষার কারণে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা হবে। যেখানে তারা বসবাসের জন্য আরেকটু ভালো পরিবেশ পাবেন।
'ভাষানচরে যেতে রাজি নয় রোহিঙ্গারা'
তবে, সীমান্ত পেড়িয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সেখান থেকে আবার নতুন কেন স্থানে, বিশেষ করে ভাষানচরের মত অনিরাপদ পরিবেশে তারা যেতে রাজী নয়- এমনটি রেডিও তেহরানকে জানালেন কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা যুবক ওমর ফারুক।
৩ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ওদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে তিন কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারে ত্রাণ কাজ চালাবার জন্য ডব্লিউএফপিকে আগেও আড়াই কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ডব্লিউএফপি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ তহবিল দিয়ে গর্ভবতী, নবজাতকের মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহসহ আট লাখেরও বেশি মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। বর্ষা মৌসুমের আগে দুর্যোগকালীন ঝুঁকি কমাতে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ সহায়তা কাজে লাগবে।
ডব্লিউএফপি’র বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা ডব্লিউএফপি’র তহবিল সংকট কমালেও এ বছরের শেষ নাগাদ রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার প্রয়োজন পড়বে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান