খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: ফখরুল
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার) সকালে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়াকে হত্যার পর দীর্ঘ ৯ বছর দেশে স্বৈরাশাসন চলেছে। সেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের পতাকা উঁচু করে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজকের অবৈধ, অনির্বাচিত ও অগণতন্ত্রিক সরকার সেই নেত্রী কারাগারে রেখেছে। সমগ্র দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা জুড়ে দেয়া হয়েছে। দেশনেত্রী ও তারেক রহমান থেকে শুরু করে আমাদের এমন একটি নেতা বা কর্মী নেই যার নামে মামলা দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য একটি জাতীয় ঐক্য অবশ্যই দরকার। এই দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে যে নির্বাচন দরকার তা অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে হতে হবে। নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
'বেগম জিয়াকে মুক্ত না করে নির্বাচন নয়'
আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জোটের দাবি প্রসঙ্গে শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত না করে তারা শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। সরকার আর একটি '৫ জানুয়ারি মার্কা' নির্বাচন করতে চাইলে তা জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
'নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই হবে'
তবে, সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই হবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি না এলেও নির্বাচন থেমে থাকবে না।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজ সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৪-৫ মাস বাকি। এই সময়ে বিএনপি কিভাবে নির্বাচনে আসবে এটা তাদের বিষয়। তাছাড়া, খালেদা জিয়াকে সরকার জেলে পাঠায়নি, আলাদত পাঠিয়েছেন। খালেদা কারাগারে থাকবেন নাকি বাইরে থাকবেন এটা আদালতের বিষয়। তিনি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না এলে সরকার তাদের জোর-জবরদিস্ত করে নির্বাচনে আনবে না।
'একটি পয়েন্টেও ত্রাণ বিতরণ করতে দেয়নি পুলিশ'
অপরদিকে, দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ‘জিয়াউর রমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে আজ ছিল মাজার জিয়ারতের পর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ। কিন্তু তাতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বিএনপির মহাসচিব জানান, দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপি ২৫টি স্পট নির্ধারণ করে ৩ দিন আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।
কিন্তু গত রাত ১২টার পর ডিএমপি জানিয়ে দিয়েছে, ঘরের মধ্যে যদি করতে পারেন, তাহলে করবেন। বাইরে কিছু করা যাবে না। তবে একটি পয়েন্টেও ত্রাণ বিতরণ করতে দেয়নি পুলিশ। সব জায়গায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০