‘বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মাদক ও অপরাধবিরোধী অফিস (ইউএনওডিসি) আজ (শনিবার) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
ইউএনওডিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। সারাবিশ্বে মাদক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও মাদক সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে নেয়া পদক্ষেপ মেনে চলার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে ইউএনওডিসি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সকল অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও সে অনুযায়ী সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিরোধী অফিস।
জাতিসংঘ সজাগ রয়েছে: ফারহান হক
এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, বাংলাদেশে চলমান মাদক অভিযানের বিষয়ে সজাগ রয়েছে জাতিসংঘের ইউএন অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম।
অভিযানে মানবাধিকার যেন লঙ্ঘন না হয় সে আহ্বান জানিয়ে ফারহান বলেন, ইউএন অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি)’র আওতাভুক্ত সব সদস্য দেশগুলোর উচিত মাদক দমন করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতির দিকে খেয়াল রাখা, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা।
বিচার ও অভিযানের স্বচ্ছতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরো বলেন, ইউএনওডিসি এ ক্ষেত্রে যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের ন্যায়-বিচার নিশ্চিত, স্বচ্ছতা বজায় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার পরিচালনা করবে সেসব দেশের পাশে থাকবে। যারা মাদকের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রমাণ সাপেক্ষ সুষ্ঠু বিচার, স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
চলমান অভিযান সাময়িক: আইনমন্ত্রী
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হোসেইনের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযান একটি সাময়িক ব্যবস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসামাত্র এই অভিযান শেষ করা হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক অবৈধ বল প্রয়োগের কোনো অভিযোগ পেলে সরকার তা তদন্ত করবে এবং প্রমাণিত হলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে ১২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক হাজার। র্যাব-পুলিশ দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে অভিযান চালালে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে। পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২