একরাম হত্যার তদন্ত লোকদেখানো ছাড়া আর কিছু নয়: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
কক্সবাজারের টেকনাফের পৌর কাউন্সিল একরাম হত্যার তদন্ত লোকদেখানো ছাড়া আর কিছু নয়, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে একদিকে নিরীহ ও সাধারণ মানুষ হত্যা চলছে অন্যদিকে গডফাদারদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সরকার সহায়তা করছে বলে অভিযোগও করেন তিনি।
আজ (রোববার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, একরাম হত্যার অডিও শুনে, তার স্ত্রী ও মেয়েদের কান্না শুনে শুধু বাংলাদেশের মানুষের বিবেকে নয় বিশ্ব বিবেককেও নাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু একরাম হত্যায় নয়, এখন পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযানের নামে ১৩০ জনের অধিক মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী আরো বলেন, ড্রাগ চেইনের লিংক হিসেবে কিছু ছিচকা মানুষসহ প্রমাণহীন মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু ড্রাগ চেইনের শীর্ষে বসে থাকা গডফাদাররা বসে আছে কি করে। এ প্রশ্ন তো সবার মুখে মুখে। বদিদের মতো এমপিরা প্রশাসনের সহায়তায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করেন। বদিসহ প্রভাবশালীরা কিভাবে দেশ ছেড়ে গেল জাতির তা জানার অধিকার আছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চায়। বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার সমাধান খোঁজে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়। একটি বেআইনি হত্যা আরো অনেক হত্যার বিস্তৃতি ঘটায়।
অভিযানে দুই একটা ভুল হতে পারে, ওবায়দুল কাদেরের এ সময় বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। রিজভী বলেন, কাদের সাহেবের এমন বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। খুনি-সন্ত্রাসীদের মতো বেআইনি হত্যাকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেয়াই তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, জাল নথির উপর ভিত্তি করে সরকারের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে বন্দি রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত হওয়ার নজির দেশে আর একটিও নেই। আর তাই ঈদের আগেই তাকে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশের জনগণ তার প্রতি জুলুমের জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৩