শেখ হাসিনা ভারতের কাছে একতরফা নির্বাচনের গ্যারান্টি চেয়েছেন: রিজভী
-
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছে আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি ভারত সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি তা সারাজীবন মনে রাখবে তারা। আমরা তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি, কোনও প্রতিদান চাই না।’ এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এই বক্তব্যের অর্থ— ভারতের কাছে আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ভারতের কাছ থেকে একমাত্র এই প্রতিদান আশা করেন তিনি, অন্য কিছু নয়।’
কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত- ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদান চেয়েছেন’ শীর্ষক সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের পত্রিকায় যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত। এ বিষয়টি আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে।
গতকাল (সোমবার) এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্র এখন সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী।’ রিজভীর মতে, ‘এই বক্তব্য জনগণের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তবে তা পেছনের দিকে।’
আওয়ামী লীগ আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার এই ইচ্ছা আর পূরণ হবে না। কারণ মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর তা হবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই।’
সরকারের বেপরোয়া লুটপাটের নীতির কারণেই সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশার জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০ জন মানুষ সড়কে নিহত হচ্ছেন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘এটা আমার কথা নয়, বিশেষজ্ঞরাই বলছেন।’
সাবেক এই ছাত্রনেতার ভাষ্য, ‘সারাদেশে সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ডে শোভা পায়। দেশে সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কে বিরাজ করছে বেহাল দশা। সড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কায় ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত লাখ লাখ মানুষ। বিকল্প হিসেবে তারা ট্রেনের টিকিটের পেছনে ছুটলেও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না।’
আগামী বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, "গণবিরোধী সরকারের কাছ থেকে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রত্যাশা কেউ করতে পারে না। এরা গণবিরোধী সরকার, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমূলক বাজেট দেবে- এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তারপরেও দেখি আমরা। কালকে বাজেট উপস্থাপন হোক। বাজেটের আদি-অন্ত বিশ্লেষণ করে কী ফুটে উঠে তার ওপর ভিত্তি করে দেখে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।"
'গত ১০ বছরে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি'- অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "রবি ঠাকুরের ওই গানটা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে- কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি। এ স্বপ্নলোকের চাবি আছে আপনার অর্থমন্ত্রীর কাছে। তাই এই ধরনের উদ্ভট কথাবার্তা বলেন আর কী।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫