খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলার পরিণতি ভালো হবে না: রিজভী
-
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)
বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দমত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ (রোববার) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি জানান।
রিজভী বলেন, "বিএনপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তার পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি না করে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুপারিশ করেছেন সেগুলো এ হাসপাতালে করানো সম্ভব নয়।"
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, "খালেদা জিয়া কারাগারে ৫-৬ মিনিট অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানে না। সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি কতটা অমানবিক তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতাকে আরো গুরুতর করে তাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়ার সুগভীর চক্রান্ত চলছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।"

পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "খালেদা জিয়ার বড় ধরনের কোনও ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তার কারামুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে যে নির্মমতা দেখানো হচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীনদের রাজনীতির ময়দান নিরাপদ ও সুখময় হয়ে উঠবে না। যদি ঈদের আগে চেয়ারপারসনকে মুক্তি ও চিকিৎসা দেয়া না হয়, তাহলে দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনগণ জীবন উৎসর্গ করে রাস্তায় নামবে। তখন সরকারের পরিণতি ভাল হবে না।"
বিএনপির এ নেতা বলেন, "দিল্লির আয়নায় বিশ্বকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ প্রতিবেশীর পদতলে ঠেলে দিয়েছে সরকার। এতে তারা নিজেকে নির্ভার মনে করলেও কোনও লাভ হবে না। জনগণের স্বার্থ যারা বিকিয়ে দেয়, তাদের পরিণতি হয় ভয়াবহ।"
গতকাল (শনিবার) বিকেলে চারজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক সোয়া ঘণ্টা কারাগারে অবস্থান ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার করেন। পরে বাইরে এসে ডা. এফ এম সিদ্দীকি বলেন, "জুনের ৫ তারিখে খালেদা জিয়া হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। প্রায় ৫/৭ মিনিট উনি আনকনসাস ছিলেন। উনি মনেই করতে পারছেন না যে, কী ঘটেছিল। মাইল্ড ফর্মে একটা স্ট্রোকের মতো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গেল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।"#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২