ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সফরকারি বাংলাদেশ। এই ম্যাচে ব্যাট হাতে তামিমের ১৩০, সাকিবের ৯৭ রানের পর ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
গায়ানায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৮০ রানের বিশাল লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে স্বাগতিকদের ইংনিস থেমে যায় ২৩১ রানে। জেসন হোল্ডারের দলের ৯ উইকেট পড়ে যায় ১৭২ রানেই। শেষ উইকেট দেবেন্দ্র বিশু আর আলজেরি জোসেফ মিলে ৫৯ রান যোগ করে পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন কেবল।
ম্যাচে অবশ্য শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১ রানের মাথায় ওপেনার এনামুল হকের উইকেট হারিয়ে বসে। তবে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা সাকিব আল হাসান শুরুর এই ধাক্কা সামলান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে এই চাপ সামলে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের পথ দেখান।
ক্যারিবীয়দের দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে চমৎকার ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়ে সাকিব ৯৭ রান করে ফিরে গেলেও তামিম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৩০ রানে। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম শতক। অবশ্য সাকিব মাত্র তিন রানের জন্য অষ্টম শতক করতে পারেননি।
তবে এদিন সাকিব-তামিম দুজনের মিলে যে জুটি গড়েছেন তা সত্যিই অসাধারণ। তারা ২০৭ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়েই দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন।
শেষ দিকে মুশফিকুর রহিম একটি দারুণ ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মাত্র ১১ বলে ৩০ রান করেন তিনি।
২৮০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ক্রিস গেইল ও মিডেল অর্ডারে খেলতে নামা শিম্রন হ্যাটমিয়ার দারুণ দুটি ইনিংস খেলেও স্বাগতিক দলটির হার এড়াতে পারেননি। গেইল ৪০ রান করেন এবং শিম্রন ৫২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।
ক্যারিবীয়দের ওপর প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। রান বাড়ানোর তাড়ায় মাশরাফিকে মিড অফ দিয়ে উড়াতে গিয়েছিলেন লুইস। কিন্তু পার করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহকে। নবম ওভারে তখন সবে ২৭ রান উঠেছে বোর্ডে।
শিমরন হেটমায়ারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ৪০ রান করে রান আউট হন গেইল। ৪০ রান করতেই লাগিয়েছেন ৬০ বল। তার আগে বল করতে এসেই শাই হোপকে তুলে নিয়েছিলেন রুবেল। যদিও রিপ্লে দেখে রিভিউ না নেয়ার আফসোসে পুড়তে পারেন হোপ। একপ্রান্তে টিকে থাকা হেটমায়ারকে সঙ্গ দিতে পারেননি জেসন মোহাম্মদ। মিরাজের ফ্লাইট বুঝতে না পেরে হয়েছেন সহজ স্টাম্পিং।
হেটমায়ারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফিফটির পরই মোস্তাফিজের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। পরের বলেই রোবমান পাওয়েলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। ৩৬তম ওভারে ততক্ষণে ১৪১ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে খাদের কিনারে চলে যায় স্বাগতিকরা। ১০ রান পর জেসন হোল্ডারকে বিদায় করে উইন্ডিজের সব সম্ভাবনাই যেন মুছে দেন মাশরাফি।
আন্দ্রে রাসেল নেমে বিশাল ছক্কা মেরে হম্বিতম্বি দেখাচ্ছিলেন। গতির বৈচিত্র্য দিয়ে তাকেও ছাটাই করেন টাইগার অধিনায়ক। মাশরাফিকে উড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন রাসেল। ফলাফল নিয়ে সব জল্পনাই তখন শেষ। পরে অ্যাশলে নার্সকে আউট করে নেন নিজের চার নম্বর উইকেট। ১০ ওভার বল করে ৩৭ রানে চার উইকেট নিয়ে মাশরাফিই দলের সেরা বোলার। মুস্তাফিজুর রহমান ৮ ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়ে দুই উইকেট পান। আর একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ ও রুবেল হোসেন।
৯ বছর পর উইন্ডিজদের মাটিতে জয় তুলে নেয়ার দিন ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। টানা ৫০ ওভার ব্যাট করে অপরাজিত ছিলেন ১৩০ রানে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, 'টেস্ট সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। এই ফরম্যাটে (ওয়ানডে) আমরা সহজে মানিয়ে পারি। আমরা আমাদের শক্তির জায়গায় বেশ পরিস্কার। আমাদের অধিনায়কের সাথে আমরা বসেছিলাম। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চেয়েছিলাম, আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি।'
ম্যাচ শেষে ক্যারিবীয়দলপতি জেসন হোল্ডার বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, 'তারা আসলেই ভালো খেলেছে। আমরা ফিল্ডিং ভালো করিনি, ক্যাচ ফেলেছি। এই দিকটাতে আরও মনোযোগ দিতে হবে আমাদের। এছাড়াও ডেথ বোলিংয়েও উন্নতির জায়গা আছে আমাদের। সুযোগ পেয়েও সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারিনি আমরা।'#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩