আমার বয়স হয়েছে, তোমরাই ভবিষ্যৎ: ছাত্রলীগের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভোগ বিলাসে গা না ভাসিয়ে আদর্শিক রাজনীতি করার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে ভালো করে লেখাপড়া শেখার জন্য তাদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ (শুক্রবার) বিকেলে গণভবনে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে বড় সম্পদ হলো শিক্ষা। ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। কেউ যদি অনেক সম্পদ বানিয়ে খুব গর্ব করে, চিরদিন তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যে সম্পদ কেউ কোনোদিন কেড়ে নিতে পারে না। তাই ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েকে সকলের আগে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এখন তো আমার বয়স হয়ে গেছে। তোমরা হলে ভবিষ্যৎ। তোমরা নেতৃত্ব দেবে। কাজেই তোমাদেরকেই এই আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
ছাত্রলীগের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যত আন্দোলন হয়েছে, সেখানে যদি শহীদদের তালিকা দেখি, ছাত্রলীগের শহীদদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বার বার অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুরা যে আন্দোলন করেছে তা নিয়ে অনেকেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যতই আন্তর্জাতিক চাপ থাকুক গুজব সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট শিশুরা– একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল, রাস্তায় নেমেছে- ওই শিশুদের যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ, তাদের যে বিক্ষুব্ধ মন সেটাকে কাজে লাগিয়ে, ছোট ছোট শিশুদের ঘাড়ে পা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য একদল নেমে পড়ল। এদের মধ্যে অনেকেই খুব জ্ঞানী, গুণী, অনেকে আঁতেল, অনেকে একেবারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খ্যাতিসম্পন্নরা কী করেছে – ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি করে দিয়েছি। আর তারই সুযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিভিন্ন জায়গায় তারা অপপ্রচার চালাল। মিথ্যা কথা বলে বলে মানুষকে উসকানি দেওয়া, তাদের এই উসকানির কারণে কতো শিশুর জীবন যেতে পারত, কতো শিশুর ক্ষতি হতে পারত, সেটা তারা একবারও চিন্তা করেনি। বরং শিশুদের বিক্ষুদ্ধ মনকে ব্যবহার করে নিজেরা ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে যখন ব্যবস্থা নিলাম, তখনই চারদিকে যেন হাহাকার। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিভিন্ন চাপ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা দেশে-বিদেশে সবার মাথায় রাখা উচিত– আমি স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি করি। বৈরী পরিবেশে, আইয়ুব খানের আমল, আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিল। আমাদের বইয়ে একটা চ্যাপ্টার ছিল, পাকিস্তান চ্যাপ্টার। ২০ নম্বর। আমি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি ওই ২০ নম্বর বাদ দিয়ে। কারণ আইয়ুব খানের প্রশংসা আমার হাত দিয়ে আমি লিখব না। আমি সেই মানুষ। আমার ওই ২০ নম্বরের জন্য ফেলও করতে পারতাম বা থার্ড ডিভিশনও পেতে পারতাম। কিন্তু আমি তা পরোয়া করিনি। নীতির প্রশ্নে আপোস নাই। এটাই হচ্ছে আমার কথা।’
স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র এখনো চলছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্য, এখনো দেখছি কতোগুলো প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়ায়। যারা আমাদের স্বাধীনতা চায়নি। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। যারা সবসময় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছিল। ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। যারা ১৫ আগস্টের পর ইতিহাস বিকৃত করেছিল।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১