মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা কেন ব্যর্থ হয়েছে?
-
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ২৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিকে হস্তক্ষেপমূলক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উস্কানিমূলক বলে বর্ণনা করেছে।
এই বিবৃতিতে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু আঞ্চলিক সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে এবং বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতির ব্যাপারে ইরান মনে করে, এই বিবৃতির বিষয়বস্তু এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পরেএ অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠোমোর সমালোচনা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের যৌথ বিবৃতিতে উত্থাপিত সমস্ত বিষয়ের সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত দাবি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, হরমুজ প্রণালী, প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ধারণা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় ওই যৌথ বিবৃতির অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মার্কিন দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সাম্প্রতিক যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তাতো দিতেই পারেনি বরং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন এবং এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা কঠিন প্রতিক্রিয়া ‘ধার করা নিরাপত্তা’ মডেলের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে দিয়েছে। বিগত দশকগুলোতে কিছু আরব দেশ তাদের নিরাপত্তাকে মার্কিন সামরিক ছাতার ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে, কিন্তু যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে এই নির্ভরশীলতা কেবল সংঘাত প্রতিরোধই করতে পারেনি, বরং এই দেশগুলোর ভূখণ্ড, ঘাঁটি এবং অবকাঠামোকে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্রের অংশ করে তুলেছে। বাস্তবে, যে নিরাপত্তা এই দেশগুলোর জন্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করার কথা ছিল, তা-ই তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রের অংশ করে তুলেছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালীর বিষয়েও একটি ভিন্ন বয়ান উপস্থাপন করেছে। অবাধ নৌচলাচল স্বাধীনতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জোর দেওয়ার বিপরীতে, তেহরান সাম্প্রতিক নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং সামরিক আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারী সরকারগুলোকে দায়ী করেছে। ইরান আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনা যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতায় উপনীত চুক্তি এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, কোনো বহিঃআঞ্চলিক শক্তির ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নয়।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।