জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে না: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i63991-জাতীয়_নির্বাচন_নিয়ে_বিএনপির_সঙ্গে_সংলাপ_হবে_না_প্রধানমন্ত্রী
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সংলাপে বসার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-27T06:25:53+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮ ১৩:২৭ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সংলাপে বসার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, "আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। ফোনও করেছিলাম, আপনারা জানেন ধরেননি (খালেদা জিয়া)। খালেদা জিয়ার ছেলে যখন মারা গেল, তখন গেলাম, মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। এই অপমান, এটা তো মেনে নেয়া যায় না। এরপর তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলুন, আমি অন্তত বসব না।"

আজ (রোববার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, "আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে তুলব। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার তারই একটি পার্ট। এটা নতুন প্রযুক্তি; ইভিএম নিয়ে আসার জন্য আমিই পক্ষে ছিলাম। এখনও পক্ষে আছি। তবে হ্যাঁ, তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না। এটা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক। কারণ টেকনোলজি আমাদের যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি বিপদেও ফেলে।"

কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, দলটির নেতাদের এমন ঘোষণার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছে, এতে আমাদের কী করার আছে। খালেদা জিয়াকে তো আমরা গ্রেপ্তার করিনি। তিনি গ্রেফতার হয়েছেন এতিমের টাকা চুরি করে। আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নাই। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে। যে মামলায় তার শাস্তি হয়েছে ওই মামলাও আমরা করি নাই। সে সময় তাদের পছন্দের সেনা সমর্থিত সরকারই ক্ষমতায় ছিল। তারাই ওই মামলা দিয়েছে। আইনের বাইরে আমার কিছু নাই। তারা পারলে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করুক।"

বিমসটেক সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এসেছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিমসটেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় উঠেছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি। এছাড়া সম্মেলনের ফাঁকে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কথা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বাঙালি অনুপ্রবেশকারী বলে পরিচিত করতে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ভুয়া ছবি দিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বই প্রকাশের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "মিয়ানমার এভাবে ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জঘন্য কাজ করেছে। কিন্তু এটা তারা কার কাছ থেকে শিখলো? আমাদের দেশেও তো হয়েছে। একেবারে কাবা ঘরের সামনে ব্যানার ধরার ছবির মিথ্যাচারও আমরা দেখেছি। সুতরাং এসব মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। মিয়ানমার সরকারও ধরা পড়ে গেছে।"

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই শুরু হয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের পালা। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন থেকে গত শুক্রবার দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময়, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানিখাতে যৌথ প্রচেষ্টা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে বিমসটেক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২