পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
-
পাকিস্তানকে হারানোর পর উল্লাস করছে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগামী শুক্রবার দুবাইয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। গতবারের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২৩৯ রান সংগ্রহ করে লাল-সবুজের দল। ২৪০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০২ রানে থেমে যায় পাকিস্তান।
লক্ষ্য বড় না হলেও বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে দলীয় মাত্র ১৮ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে সরফরাজ আহমেদের দল। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার ফখর জামানকে রুবেল হোসেনের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এরপর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই বাবর আজমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজকেও তুলে নেন মুস্তাফিজ।
এর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান শোয়েব মালিক ও ইমাম-উল হক। দুজনে মিলে ৬৭ রানের জুটি গড়েন। তখনই রুবেল হোসেনের বলে মাশরাফির দুর্দন্ত এক ক্যাচে বিদায় নেন শোয়েব মালিক (৩০)। মালিকের বিদায়ের পর ৯৪ রানে পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট হিসেবে লিটন দাসের ক্যাচ হয়ে বিদায় নেন শাদাব খান (৪)।
তবে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন ওপেনিংয়ে নামা ইমাম-উল-হক ও আসিফ আলী। এই দুজনের ৭১ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। ৪৭ বলে ৩১ রান করা আসিফকে লিটন দাসের স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আসিফের পর ক্রিজে জাঁকিয়ে বসা ইমামকে (৮৩) বিদায় করেন মাহমুদউল্লাহ। এ দুজন ফিরে গেলে আবার বিপদে পড়ে দলটি। এরপর দ্রুত পাকিস্তানের লো অর্ডার ব্যাটসম্যান নওয়াজ আর হাসান আলীকে তুলে নেন মুস্তাফিজ।
বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ৪৩ রানে চারটি, মিরাজ ২৮ রানে দুটি এবং রুবেল, মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য একটি করে উইকেট পান।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় মাত্র ১২ রানে তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপরই চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন ১৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে একটা ভালো সংগ্রহের পথ দেখান। মিঠুন ৬০ রান করে ফিরে গেলেও দলকে অনেকটাই এগিয়ে নেন মুশফিক। কিন্তু মিস্টার ডিপেনডেবল খ্যাত এই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির একেবারেই কাছাকাছি গিয়েও ৯৯ রান করে আউট হয়ে যান। অল্পের জন্য ক্যারিয়ারের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি।
সেঞ্চুরি না পেলেও দলকে একটা ভালো সংগ্রহ গড়ে দিতে মূল্যবান অবদান রাখেন মুশফিক। এছাড়া, মাহমুদউল্লাহ ২৫ ও মাশরাফি ১৩ রান করেন।
জুনাইদ খান ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার। দুটি করে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী।
৯৯ রান করে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পান মুশফিকুর রহিম।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭