সংলাপে আলোচনা হবে খোলা মনে: ওবায়দুল কাদের
-
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তিনটি বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট করেই বলেন, এ সংলাপ সরকারের সঙ্গে নয়, এ সংলাপ আওয়ামী লীগের সঙ্গে। এ সংলাপ আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে। আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তারাও চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ করতে।
মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও সভা-সমাবেশে সমান অধিকার নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান।
ওবায়দুল কাদের জানান, সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নিয়ে তারা আলোচনা করতে চান। তাদের মোস্ট ওয়েলকাম। তাদের আলোচনার তালিকায় সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আছে। দুয়েকটি বিষয় আছে যেগুলো আইন-আদালতের বিষয়। আবার দুয়েকটি বিষয় পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের। সংলাপ নিয়ে আমরা যা বলেছি, সেটা আমাদের সরকার ও দলের নীতিগত বিষয়। আর তারা তাদের বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আরেকটি বিষয় আছে, সেটা হলো বিদেশি পর্যবেক্ষক। সেটা তো মেনে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু যেটা আমরা মেনে নিতে পারি না, সেটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন চেয়েছেন, তখন আলাপ আলোচনা খোলামেলা পরিবশেই হবে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতা মোস্তফা মহসিন মিন্টুর সঙ্গে আলাপের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় খবর এসেছে, আমরা নাকি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছি। এটা সত্য নয়। আমি মোস্তফা মহসিন মিন্টুর সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি তারা কয়জন আসতে চান। তিনি বলেছেন ১৫ জন। আমি বলেছি, ১৫ জন কেন, চাইলে আপনারা ২০-২৫ জনও আসতে পারেন।
সংলাপে কোন্ পক্ষের কতজন থাকবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের কত জন থাকবেন, সেটা নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্ট তালিকা পাঠাবে। তাদের লিস্টটা দেখে আমরা ঠিক করব আমাদের কারা থাকবেন। ১৪ দল এক সুরে কথা বলেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলে জানান তিনি।
কারও আন্দোলন বা চাপের মুখে এই সংলাপ নয়— এমনটি জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, এটা তো এমন হয়নি যে দেশে একটি প্রতিবাদের ঝড় বা আন্দোলনমুখর অবস্থা বিরাজ করছে এবং সেই অবস্থায় সরকার নতি স্বীকার করে সংলাপে বসছে। বিষয়টা হচ্ছে, ড. কামাল হোসেন সাহেব ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন। শেখ হাসিনাও বলেছেন, কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার জন্য দরজা খোলা আছে। তাই আলোচনা হবে।
এর আগে, গত রোববার (২৮ অক্টোবর) সরকারের সঙ্গে সংলাপ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরদিন সোমবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর দলীয় শীর্ষ নেতাদের অনির্ধারিত এক বৈঠকে সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চিঠি ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের বাসায় পৌঁছে দেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ। তাতে বলা হয়, আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৩০