নির্বাচন পেছানোর দাবি অযৌক্তিক- কাদের: আমরা হতাশ- ফখরুল
-
ওবায়দুল কাদের (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য জাতীয় নির্বাচনের তারিখ পেছাতে হবে, এর চেয়ে হাস্যকর, অবান্তর, অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক দাবি আর হতে পারে না।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশটাকে ছোট ভাববেন না। আমরা কারো চেয়ে ছোট না। বন্ধু দেশ আমাদের অসংখ্য আছে। কিন্তু মর্যাদায় আমরা কারো চেয়ে ছোট নয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি আন্দোলনের চিন্তা করে, তাহলে সারা দেশের জনগণেই তাদের প্রতিরোধ করবে। কারণ জনগণ এখন নির্বাচনের মুডে রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। আমাদের এখানে কিছুই করার নেই।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আমরা যে দাবিগুলো করেছি তফসিল ঘোষণার আগে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার, যেটি আগে থেকেই রেওয়াজ ছিল, এই কমিশন সেটি করেনি। আমরা এতে হতাশ হয়েছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা। আর আমরা যে দাবিগুলো করেছি, সেগুলো অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দিতে বলেছি, কারণ যখন ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন। এ সময় তারা উৎসব পালন করবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি না মেনে নির্বাচনের যে নতুন তারিখ দিয়েছে, তার একদিন পর ইংরেজি নববর্ষ। ওই সময় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি তাঁরা কেউ থাকবেন না। তাঁরা নববর্ষ উদযাপনে নিজ দেশে থাকবেন। তাই আমরা আমাদের এই দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল দুপুর ১২টায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে যাব।’
এর আগে বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব যা বলার বলবেন। আলাদা করে বলতে চাই না। তবু আপনারা যেহেতু জানতে চেয়েছেন, এতটুকু বলি, দেশ সম্পূর্ণ অনিয়মে চলছে। আমরা সেটা নিয়মে আনতে চাই।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঠিকভাবে চলছে না। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সাত দিন পিছিয়েছে, সেটা অন্যায়। এটা তো সরকারের আহ্বান, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আহ্বান ছিল। আমরা তো এক মাস চেয়েছি। দেশের মানুষ এক মাস পেছানোর কথা বলেছে।’
চলমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে আজ দুপুর ১২টায় ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক শুরু হয়। চলে দেড়টা পর্যন্ত। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩