সংসদে মাথা নত না করে নিজ ধর্মমতে সম্মান দেখানোর সুযোগ পেলেন এমপিরা
-
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরা এখন থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সংসদের বৈঠকের শুরুতে এ বিষয়ে রুলিং দিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে সমালোচনা ও বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত দেন। স্পিকার জানান, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, “সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ-কক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং তার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময়ে সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, এই বিধিতে আগে ‘ঝুঁকিয়া’ (মাথা নত করা) শব্দটি ছিল। তবে ২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তা সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, “যেহেতু ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।”
বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন গত সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদ কক্ষে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় অনেক সদস্য স্পিকারের চেয়ারের দিকে মাথা নত করে সম্মান জানান, যা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিকর। তিনি কার্যপ্রণালী বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ পড়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকও একই বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে বিভ্রান্তির কথা জানান এবং স্পিকারের কাছে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চান।
স্পিকার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানান। এর ফলে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি—যেমন সালাম, মাথা নত করা বা অন্যান্য পদ্ধতিতে—স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান দেখাতে পারবেন।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮