আদালতে আটকে রাখা হলে বলে দিক, নির্বাচন করো না: খালেদা জিয়া
-
আদালতে খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আজ নাইকো দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে হুইল চেয়ারে বসিয়ে হাজির করা হয়। এসময় তিনি আদালতকে বলেছেন, একদল একতরফা নির্বাচন করবে আর আমরা আদালতে দৌড়াব, এটা তো হতে পারে না।
বেগম জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বেগম জিয়াকে উদ্ধৃত করে রেডিও তেহরানকে বলেন, বিচারককে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, যেহেতু এখন সবাই মাঠে নির্বাচনের কাজ করছে, কেউ আমার জন্য, কেউ তার জন্য। যেখানে ইলেকশন নিয়ে সবাই ব্যস্ত, সেখানে আমাদের আদালতে আটকে রাখা হয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের নির্বাচনী কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও যদি আমাদের কোর্টের মধ্যেই আটকে রাখা হয়, তাহলে বলে দিক, নির্বাচন করো না।
বেগম জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার রেডিও তেহরানকে বলেন, উনি ওনার অবস্থান থেকে ওনার কথা বলেছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বচনের জন্য জনগণ আশান্বিত হয়েছে। সেটিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ভাবে সুসম্পন্ন করাটা জরুরি। তা নাহলে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা হারাবে এবং তাতে দেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে।
'সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে'
অপরদিকে, সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
আজ রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রিয় কার্যালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, টিভি খুললেই দেখছি- অনেক চ্যানেলে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিএম’র অ্যাডভারটাইজমেন্ট চলতে থাকে। কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝাও যায় না, বিজ্ঞাপন দাতা কে? কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝা যায় যে, বিজ্ঞাপন দাতা মন্ত্রণালয়।
এটা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগের বিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এসব দেখে না দেখার ভান করছে। অবিলম্বে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। গণমাধ্যমে সকল দলের সমান সুযোগের ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।
বর্তমান ইলেকশন কমিশন সরকারের খয়ের খাঁ মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সরকারের হুকুমে নানা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এমনিতে একের পর পর এক কালাকানুন তৈরি করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। গণমাধ্যমের ওপর চলছে সরকারি নিবর্তনমূলক খড়গ। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিনিয়ত মিডিয়াকে ওয়াচ এর নামে ধমকিয়ে যাচ্ছে। ভোট ডাকাতি ও ভোট কারচুপির খবর যাতে প্রকাশ না হতে পারে, ভোট সন্ত্রাসের খবর যাতে প্রকাশ না হতে পারে, সেজন্যই গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণের জন্যই এ কঠোর নীতিমালা।
নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচনী প্রশাসন না সাজালে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন