‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে ঐক্যফ্রন্ট: মান্না
-
ধানের শীষ হাতে খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, "ঐক্যফ্রন্ট একটি 'কমন' প্রতীকে নির্বাচন করবে। প্রতীক হবে 'ধানের শীষ।" মান্না আরও বলেন, "আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।"
ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকার যেকোনো উপায়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই: অলি আহমদ
ওদিকে, ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থাকুক তা সরকার চায় কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন।
অলি আহমদ বলেন, 'সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বললেও এখনও তা নিশ্চিত হয়নি। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়া অব্যাহত আছে। এভাবে চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আমি বলতে চাই আমরা নির্বাচনে থাকি সেটা সরকার চায় কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। '
এলডিপির সভাপতি বলেন, "নির্বাচন হবে কি না, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন পুলিশের আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখো নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এতে নারী কর্মীসহ বিএনপির প্রায় ৬০/৭০ জন মারাত্মক আহত হন। এ সময় খালেদা জিয়ার মনোয়নয়নপত্র জমা দিতে আসা তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু, খুলনা জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য তখন একদল হেলমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হেলমেট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্রছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল।"
অলি আহমদ বলেন, "মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। কেউ কেউ হাতি নিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল সহকারে এসেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনো নির্দেশনা বা কোনো আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে তারা সঙ্কিত, কম্পমান, তারা হয়তো মনে এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না; গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো।"
এ ঘটনার দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে এলডিপির সভাপতি বলেন, "হঠাৎ করে এমন কি হলো যে গতকাল হামলা চালাতে হলো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলছে। কিন্তু মাঠে ময়দানে যখন আমরা যাই তখন দেখি মন্ত্রীরা এখনও পুলিশ পাহাড়ায় চলে। কয়েক দিন আগে এরশাদ রংপুরে গিয়েছিল, সেখানে তাকে পুলিশের এসপি নিরাপত্তা দিয়েছে। তাহলে বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এক সময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।"
অলি আহমদ বলেন, "জাতীয় রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক মামলা দেওয়া যাবে না, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না এবং গায়েবি ও মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি একথা বলার পরেও শত শত রাজনৈতিক ও গায়েবি মামলা হয়েছে এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আসামি করে ঘর-বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব এবং সে ক্ষেত্রে বলতে চাই ২০ দল নির্বাচনে আসুক সরকার সেটা চায় কি না তাতে সন্দেহ আছে।"
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী, বিজেপিসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।#
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন