জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে মস্কো-কিয়েভ সংঘাত বাড়ছে
ইউক্রেনজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার পাল্টা হামলা
-
পশ্চিম ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র
পার্সটুডে: রুশ বাহিনী ইউক্রেনের কিয়েভ, সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা এবং ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের (ডিপিআর) ইউক্রেনীয় বাহিনী-নিয়ন্ত্রিত অংশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে যে, এসব হামলায় তাদের মানববিহীন আকাশযান (UAV) ইউনিট গেরবেরা (Gerbera) মডেলের ড্রোন ব্যবহার করেছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে: “রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানববিহীন সিস্টেম ইউনিটের গেরবেরা ড্রোন পরিচালনাকারীরা ইউক্রেনের কিয়েভ, সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলে এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দখলে থাকা ডিপিআরের অংশে অবস্থিত ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।” বিবৃতির সঙ্গে হামলার ভিডিওচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে।
জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ছে
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জনসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছে, যা বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার স্বীকারোক্তি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার নিশ্চিত করেছেন যে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অভিযান বাহিনী (Special Operations Forces) ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত তিউমেন তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি দাবি করেন, দেশের আধুনিকায়ন করা ফায়ার পয়েন্ট (Fire Point) ড্রোনগুলো ৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তার মতে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
যুদ্ধের পটভূমি
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে তাদের তথাকথিত “বিশেষ সামরিক অভিযান” শুরু করে। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণ ঠেকাতেই এই অভিযান শুরু করা হয়।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে জনবল সংকট
যুদ্ধের চার বছর পর পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, কয়েক দশ হাজার ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য বাহিনী থেকে পালিয়ে গেছে বা অনুমতি ছাড়া ইউনিট ত্যাগ করেছে। ইউক্রেনের নেতৃত্ব এখন গুরুতর নিয়োগ সংকটের মুখোমুখি। প্রায় ২ লাখ সেনা-সদস্য নাকি অনুমতি ছাড়াই তাদের ইউনিট ছেড়ে চলে গেছে।
পলাতক সেনাদের অনেকে নেতৃত্বের প্রতি অবিশ্বাস, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, হতাশা এবং নতুন সদস্য নিয়োগে কখনও কখনও ব্যবহৃত কঠোর বা সহিংস পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন।
যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা
হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং নতুন সৈন্যের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে যে আরও প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংস এড়াতে কিয়েভের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।