ইতিহাস গড়া জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ
ঢাকা টেস্টে সফরকারি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এক ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দুই ম্যাচ টেস্টে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও দিয়েছে টাইগাররা।
এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয় দলটিকে তাদেরই মাটিতে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। অবশ্য গত জুলাইতে তাদেরই মাটিতে ২-০ ব্যবধানে হেরিছিল সাকিবরা। এবার তারই প্রতিশোধ নিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গড়ে ৫০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে সফরকারী দলটির প্রথম ইনিংস মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ফের মিরাজ আঘাতে ২১৩ রানে সবকটি উইকেট হারায় তারা। তরুণ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি-জাদুতেই দুই ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। প্রথম ইনিংসে ১৬ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে সাত উইকেট তুলে নেন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে পান পাঁচ উইকেট। এ ছাড়া সাকিব প্রথম ইনিংসে তিনটি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেট পান। আর তাইজুল প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে শিমরন হেটমায়ার ৯৩ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলে দলের হার এড়াতে পারেননি, শুধু ব্যবধান কমিয়েছেন মাত্র।
অন্যদিকে, ম্যাচের ইনিংসে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ২৪২ বল খেলে ১৩৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন তিনি। তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম খেলেন ৭৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস, যাতে তিনি বল খরচ করেছেন ১৯৯টি। আর মুমিনুল ও মিঠুন ২৯ রান করে নেন। ওপেনার সৌম্য সরকার করেন ১৯ রান। পরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব-মুশফিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু মুশফিক দ্রুত ফিরে গেলে (১৪) কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে সেই চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ জুটি। দুজনে ১১১ রানের জুটি গড়েন। তবে সাকিব ১৩৯ বলে ৮০ রান করে আউট হন। এক টেস্ট পর দলে ফিরে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস ৫৪ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন।

ঢাকা টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পেয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন