ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দুর্ব্যবহার থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না: শেখ হাসিনা
-
সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও চাঁদপুরের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফন্টের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের প্রতি তাদের বাজে মনোভাব প্রদর্শনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে দলের নেতা-কর্মীদের তাদের উস্কানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ (বুধবার) বিকেলে ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, নওগাঁ এবং চাঁদপুরের নির্বাচনী জনসভায় দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান। তিনি তিন জেলার আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের নির্বাচনী প্রার্থীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের জন্য জনগণের ভোট চান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না জেনেই তারা দেশব্যাপী নানা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা আমাদের নির্বাচনী অফিস পুড়িয়েছে এবং পাঁচজন নেতা-কর্মীকে এ পর্যন্ত হত্যা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাঁরা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটকে জয়যুক্ত করতে চায়। বিএনপি-জামায়াত এই নির্বাচনটাকে নস্যাৎ করতে চায়, বানচাল করতে চায়। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং অপবাদ ছড়াচ্ছে।’
শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীসহ সকলকে ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি একটা অনুরোধ করব সবাইকে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। সকলকে এ সময় একটু ধৈর্য্যধারণ করতে হবে। নির্বাচনটা যাতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে হয় সেজন্য আমাদের সকল নেতা-কর্মীকে সক্রিয় থাকতে হবে। সেই সাথে যেহেতু বিএনপি’র মানুষ খুন করার অভ্যাস তাই সকলকে আমি বলব- নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাটাও নিজেদেরই করতে হবে। কারণ এরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদই জানে, আর কিছু জানে না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ওরা উস্কাবে, ওদের সন্ত্রাস করা চরিত্র, ওরা সন্ত্রাস করবে কিন্তু আমাদের খুব ধৈর্যধারণ করতে হবে। কারণ আমরা জানি আমরা জয়লাভ করে আবার সরকার গঠন করে জনগণের সেবা করব। তাই আমাদেরকেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে যাতে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং ওরা কোনভাবেই তা বানচাল করতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দুর্ব্যবহার থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। তারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ঝগড়া করছে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে এমন বাজে ভাষা ব্যবহার করছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে কেউ এ ধরনের ব্যবহার আশা করে না। তিনি এর আগে আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অশোভন মন্তব্য করেছেন এবং সাংবাদিককে খামোশ বলেও ধমক দিয়েছেন।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বিএনপি’র উদ্দেশে বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ চায়নি, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তারাই আজকে এদের দোসর। আর তাদেরই নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের ড. কামাল হোসেন সাহেব। আর সেটা করতে গিয়ে তিনি আমাদের পুলিশ বাহিনীকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। যে পুলিশ দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশ থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দূর করে মানুষের জীবনে শান্তি এনে দিয়েছে, তাদেরই গালাগালি করা হচ্ছে। তিনি যে ধরনের গালি দিতে পারেন, তা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি। আর এই ধরনের কথাবার্তার জন্যই মানুষ তাদেরকে ভোটও দেবে না। মানুষ তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।’
শেখ হাসিনা ভাষণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে জনগণকে পুণরায় সেবা করার সুযোগ প্রদানের জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রত্যাশা করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন