সশস্ত্র বাহিনীকে কাজ করতে সুযোগ না দেয়া সরকারের কৌশল: বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66919-সশস্ত্র_বাহিনীকে_কাজ_করতে_সুযোগ_না_দেয়া_সরকারের_কৌশল_বিএনপি
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। আজ (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ অভিযোগ করেন। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮ ২২:০৪ Asia/Dhaka
  • নজরুল ইসলাম খান
    নজরুল ইসলাম খান

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। আজ (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, “দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও আশা করেছিলাম সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর হামলা, আক্রমণ, গ্রেপ্তার বন্ধ হবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টো আমাদের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের উপর হামলা-নির্যাতন বেড়ে গেছে আমরা ভোটারদের নিরাপত্তা ও নিবাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের যেভাবে নিয়োগ করা হয়েছে এবং তাদের কর্মপরিধি যেভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তাতে তারা এ দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে মনে হয় না। জনগণের দাবি মেনে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ করা হলো, কিন্তু তাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলো না। সরকার এ ধরনের একটি কৌশল নিয়েছে। আমরা দাবি করছি যে, সশস্ত্র বাহিনীকে যে দায়িত্ব পালনের জন্য দাবি জানিয়েছিলাম সে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক।”

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, এ নির্বাচনের তফসিল পুরোপুরি অসমতল। তারপরও আমরা এ অসমতল মাঠে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা ছিল নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোট সুষ্ঠু করতে পদক্ষেপ নেবে কিন্তু তারা সেটি করেনি। এমনকি ভোটে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করেছিলাম। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ভোটের সময় সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করবেন না, সুষ্ঠু ভোট হবে কিন্তু তিনি যা বলেছিলেন সেগুলোর কোনোটাই তিনি রাখেননি।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসময় ১৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এখনো সরকারি দল পুলিশের প্রহরায় প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এমনকি শোনা যাচ্ছে আজ বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরকার প্রধানের একটি অনুষ্ঠান পুনঃ প্রচার করা হবে। এছাড়া একটি টিভি চ্যানেল প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের একটা বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচার করবে যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ দেশে আইন যারা বানিয়েছে তারাই নিয়মিত আইনলঙ্ঘন করছে।

ভোটের দিন জনগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা আশা করি জনগণ সজাগ দৃষ্টি রাখবে, যাতে ভোটের আগের রাতে কেউ বাক্স ভর্তি করতে না পারেন। যাতে কেউ জাল ভোট না দিতে পারে। যাতে ভোটারদের সন্ত্রস্ত ও ভোট দেওয়ায় বিলম্বিত করতে না পারে। আমরা মনে করি, এটা জনগণের দায়িত্ব। একইসঙ্গে আমাদের দলীয় যারা আছেন সাহসিকতার সঙ্গে এ নির্বাচনী লড়াই অংশ নেওয়ার অনুরোধ করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন