বিগত ৪৭ বছরে এ রকম শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ দেখিনি: সেনাপ্রধান
-
জেনারেল আজিজ আহমেদ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, 'বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে আমরা দেখেছি, নির্বাচনের অত্যন্ত চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সেনাপ্রধান হিসেবে বলছি, আমিও এই দেশের নাগরিক। গত এক সপ্তাহ সারা দেশ ঘুরে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমরা বিগত ৪৭ বছরে এ রকম শান্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখিনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে কিছু না কিছু সহিংসতা হয়েছে। এবারও সহিংসতা হয়েছে, তবে সে সংখ্যা খুবই কম।’
আজ (শনিবার) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি। সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সবাই আশ্বস্ত করেছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আজিজ আহমেদ বলেন, কোনো প্রকার হুমকি আছে কি না, সে জিনিসটা আমরা জানার চেষ্টা করেছি। যাতে করে সেনাবাহিনী দিয়ে সে ঝুঁকি, বিপদ-ভয়ের আশঙ্কা কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি। কিন্তু সবাই আমাদের আশ্বস্ত করেছে।
সেনাপ্রধান বলেন, 'কিছু কিছু এলাকা যেমন- সীমান্ত এলাকা সম্পর্কে বলেছে। আমি সে এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি যাতে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, সারা দেশের সংখ্যালঘু এলাকাগুলোয় সেনাবাহিনী গিয়ে আশ্বস্ত করছে, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং যার যার ভোট দিতে পারে। এজন্য সেসব এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী টহল আজকেও যাচ্ছে, নির্বাচনের পরেও যাবে।'
সেনাপ্রধান বলেন, 'অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যারা হেরে যায়, তারা সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক সতর্ক থাকব।'
আজিজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার, সিভিল প্রশাসন আমরা সবাই একটি টিম হিসেবে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব। কোনো ধর্মের প্রতি যেন কোনো সংঘাত না হয়, কেউ যেন ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সেদিকে আমরা অত্যন্ত সতর্ক থাকব। আজকে থেকে আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আমরা যেন জনগণের মধ্যে একটা আস্থা আনতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান হিসেবে বলব, চমৎকার পরিবেশ, যেটা বিশেষ করে ঢাকার বাইরে দেখে এসেছি। সবাই আশ্বস্ত করেছে যে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবার নির্বাচন হবে। কোনো থ্রেট আছে কি-না তা সবার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি। যেন সেনাবাহিনী দিয়ে সেখানে যে ঝুঁকি বা বিপদের বা ভয়ের আশঙ্কা আছে তা কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি। সীমান্ত এলাকাগুলোর আমি সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছি। যেন ওই জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’
সবশেষে সুন্দর একটা নির্বাচন যেন সম্পন্ন হয় এবং কেউ যাতে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন