সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় ড. কামাল ক্ষুব্ধ, মূলহোতাকে আ. লীগ থেকে বহিষ্কার
-
রুহুল আমিন
বাংলাদেশের নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) রাতে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক।
ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) রুহুল আমিনকে ২ জানুয়ারি গভীর রাতে নোয়াখালী সদর ও সেনবাগ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ধানের শীষে ভোট দেয়ায় নির্বাচনের দিন রাতে ওই নারীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে জখম করার ঘটনায় রুহুল আমিনকেই নেতৃত্বদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছিলেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় এজাহারে থাকা ৯ জনের মধ্যে মূলহোতা রুহুল আমিনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গণধর্ষণের শিকার ওই নারীকে পরদিন ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ জানিয়েছেন, পরীক্ষায় গণধর্ষণের আলামত মিলেছে।
এ লজ্জা সমগ্র জাতির: ড. কামাল
এদিকে, স্বামী-সন্তানদের বেঁধে পিটিয়ে আহত করে তাদের সামনে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত লোমহর্ষক’ বলে মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে কামাল হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদেরকে অত্যন্ত হেয়প্রতিপন্ন করেছে। কোনও গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা কল্পনাও করা কঠিন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ওই নারী নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে চাইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলে। ওই নারী তাদের কথায় সায় না দিয়ে নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেন। এরপর সন্ত্রাসীরা ওই নারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
ড. কামালের অভিযোগ, পুলিশ বাদীর কথিত মতে হুকুমের আসামিসহ অনেকের নাম বাদ দেওয়ায় আমি ক্ষোভ প্রকাশ করছি। অনতিবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি। এই ঘটনা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকির সম্মুখীন করেছে এবং এতে আমরা ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।
কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য দেশের মর্মাহত জনগণকেই উদ্যোগী হতে হবে। এই লজ্জা ওই নারীর নয় বরং এ লজ্জা সমগ্র জাতির। এ নির্যাতন আমাদের গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন