রাজশাহীকে উড়িয়ে দাপুটে শুরু ঢাকার, ভুল থেকে শিক্ষা নিলেন মিরাজ
-
ম্যাচ শেষে আলাপচারিতায় সাকিব ও মিরাজ
রাজশাহীর বিপক্ষে ৮৩ রানের দাপুটে জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের মিশন শুরু করল সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস।
রাজধানীর মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ (শনিবার) দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং পেয়ে ঢাকা সংগ্রহ করে ১৮৯ রানে। জবাবে সাকিব-রুবেলদের বোলিং তোপে ১০ বল বাকি থাকতেই ১০৬ রানে অলআউট হয় মেহেদী হাসান মিরাজের রাজশাহী। সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। দশম উইকেটে ২৬ রানের জুটি গড়েন আরাফাত সানি (১৮) ও মোস্তাফিজুর রহমান (১১)। ব্যাট হাতে মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, জাকির হাসান, মিরাজরা সবাই ব্যর্থ। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন পেসার রুবেল হোসেন। আরেক পেসার মোহর শেখ পান ২ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে হযরতুল্লাহ জাজাই ও সুনিল নারাইনের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় ঢাকা। শুরুর জুটিতে দুই বাঁহাতি ১০.৪ ওভারে যোগ করেন ১১৬ রান। ২২ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর ৫০ রানে হাফিজের বলে জীবন পান জাজাই। বেশ উপরে উঠে যাওয়া ক্যাচ গ্লাভসে নিতে পারেননি জাকির হাসান। খানিক পর নারাইনকে থামিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ হাফিজ।

দ্বাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফেরা মিরাজকে আবার ছক্কা হাঁকান জাজাই। পরের বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে লং অনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৪১ বলে খেলা তার ৭৮ রানের ইনিংস গড়া ৭ ছক্কা ও চারটি চারে।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন কাইরন পোলার্ড, সাকিব ও নুরুল হাসান সোহান। ২০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ঢাকা। এরপর আন্দ্রে রাসেল ও শুভাগত হোম চৌধুরী বাড়ান রানের গতি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে রাসেলের সঙ্গে ২৮ বলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি। শুভাগত ১৪ বলে করেন ৩৮ রান। রাসেল ১৯ বলে করেন ২১ রান।
বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি ২ উইকেট নেন ২৩ রানে। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সুবাদে জাজাই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংবাদ সম্মেলনে এসে জাজাই বলেন, 'উইকেট সহজ ছিল না। কঠিন ছিল কিন্তু আমি ভালো ফর্মে আছি। তাই যে কোন উইকেটে আমি ছক্কা হাঁকাতে পারি।'
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের জন্য বড় মঞ্চ, ফার্স্ট টাইম এমন বড় জায়গায় অধিনায়কত্ব করেছি। অবশ্যই অনেক কিছু শিখতে পেরেছি একটা ম্যাচ থেকে। আমার কোন কোন জায়গায় ল্যাকিংস ছিল, ভুল ছিল; আসলে কিভাবে করতে হবে এটা মাথায় আরও ক্লিয়ার হয়েছে। আপনারা জানেন, আমি আরও দুই আড়াই বছর আগে অধিনায়কত্ব করেছি। অনেক দিন পর এমন চিন্তা-ভাবনা করছি।‘
মিরাজ আরো বলেন, ‘আমার যে জায়গায় ল্যাকিংস ছিল সেই জায়গা নিয়ে আমার টিমমেট, কোচ আলোচনা করবেন। অবশ্যই শেখার কোনো শেষ নেই। এটা আমার জন্য বড় মঞ্চ, আমি এখান থেকে নিজেকে কতোটা ম্যাচিউর করতে পারি, এটাই আসলে অনেক বড় ব্যাপার।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন