নির্বাচন পরবর্তী করণীয় নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ ঐক্যফ্রন্টের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i67393-নির্বাচন_পরবর্তী_করণীয়_নিয়ে_রাজনৈতিক_সংলাপের_উদ্যোগ_ঐক্যফ্রন্টের
বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মতামত জানতে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ১৬, ২০১৯ ১৪:৫০ Asia/Dhaka
  • নির্বাচন পরবর্তী করণীয় নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ ঐক্যফ্রন্টের

বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মতামত জানতে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে এ মর্মে  সিদ্ধান্ত হয়েছে, জনগণ যে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাই করে নিতে পারত, সেই নির্বাচন হয়নি বলে ধরে নিতে হবে।

বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ফলে জনগণ নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

ঐক্যফ্রন্টের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, এই সংলাপে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো এবং বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকেও (জাপা) আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপর বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও সংলাপে আশা করছে ঐক্যফ্রন্ট।

একটি জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ প্রসঙ্গে, বাম জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, এ উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। আমন্ত্রণ পেলে দল ও জোটে আলোচনা করে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেছেন, তাঁরা তাঁদের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন। ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের বিষয় ও অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে জানতে হবে। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পর তা বিবেচনা করে দেখা হবে।

তবে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবি অসাংবিধানিক এবং জনগণের মতের প্রতি অশ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।’

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে  আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পুনরায় নির্বাচনে দাবি মোটেও সাংবিধানিক নয় এবং অত্যন্ত অযৌক্তিক। জনগণ ভোট দিয়েছে তাই জনগণকে এভাবে অসম্মান করার কোনো অধিকার ঐক্যফ্রন্টের নেই।’

এদিকে, বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'। সেখানে বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি গেল নির্বাচন নিয়েও করা হয়েছে সমালোচনা।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয় পায়, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৯৬ ভাগ। এ ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করবে বলে মন্তব্য করা হয়।

এতে বলা হয়, নির্বাচনের আগে থেকেই সপ্তাহ এবং মাস ধরে স্থানীয় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিরোধী দলকে হুমকি প্রদান এবং তাদের প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে আসছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ অবস্থাকে ‘সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকের জন্যে ভীতিকর আবহ' বলে উল্লেখ করেছে।

সম্পাদকীয়টিতে আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জরিপে এমনটাই বোঝা গেছে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে শেখ হাসিনা সহজ জয় পাবেন। সেখানে কেন এই অযৌক্তিক নির্বাচনী ফলাফল? শেখ হাসিনার সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে এমন কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতির আড়ালে। এখন সমালোচকরা নির্বাসিত হোক বা আত্মগোপনে যাক না কেন, তারা আরো কট্টর হবে এবং বিদেশি সমর্থকরা আরো সতর্ক হয়ে উঠবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রসঙ্গে টেনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বৃহত্তম একক বাজারের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তারা নির্বাচনী প্রচারণাকালে ‘হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য খবরে’ উদ্বেগ জানিয়েছিল। আর সমাধানের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্বাচনী সহিংসতা ও ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতাসমূহ’ যা কিনা নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনকে ‘ম্লান’ করেছে, তা তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

পরিশেষে বলা হয়, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যে গতিপথ, তাতে করে এমন সমালোচনা তিনি সম্ভবত আমলে নেবেন না। কিন্তু যারা বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করছে এবং দারিদ্র হ্রাসের কারণে আনন্দিত, তাকে ও তার মিত্রদের তাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত যে মানবাধিকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন