সেই রুহুল আমিনের জামিনাদেশ বাতিল করল হাইকোর্ট
-
৩ জানুয়ারি রুহুল আমিন ও ইবরাহিম খলিল বেচুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে চার সন্তানের জননীকে (৩২) গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা রুহুল আমিনকে এক বছরের জামিনাদেশ প্রত্যাহার করেছে হাইকোর্ট।
আজ (শনিবার) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনাদেশ প্রত্যাহার করে আদেশ দেন। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আসামি আদালতকে ভুল বুঝিয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিল সেটি বাতিল হয়ে গেছে এবং তা আর কার্যকর থাকল না। আমরা সব জায়গায় জানিয়ে দিব সে (রুহুল আমিন) যেন আগের আদেশ অনুসারে বের হতে না পারে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় জানান, বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে আসামি রুহুল আমিন জামিন পান। এটি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষে জামিন স্থগিত চেয়ে আপিলের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। এর মধ্যে আজ চেম্বারে আদালত বসে ১৮ মার্চের আদেশ প্রত্যাহার (রিকল) করে আদেশ দেন। এছাড়া পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ মার্চ দিন রেখেছেন।
গত ১৮ মার্চ এই বেঞ্চ আসামি রুহুলকে এক বছরের অন্তবর্তিকালীন জামিন দিয়েছিল। দু'দিন পর জামিন প্রাপ্তি নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির জামিন বাতিল চেয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে দরখাস্ত (রিকল পিটিশন) দেয়। ওই পিটিশনটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আজ সকালে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ বসে।
জামিনের বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে এ আবেদনের একটি অনুলিপি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাতে অন্য কোর্টের কথা বলা ছিল। আমাদের কোর্টের কথা ছিল না। কিন্তু তারা আমাদের কোর্টে শুনানি করে জামিন পেয়েছেন। আমরা আপিল বিভাগে যাচ্ছি। আশা করি সে (আসামি) এর মধ্যে বের হতে পারবে না।
এর আগে, এই মামলার অপর আসামিরা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে রুহুল আমিনের নির্দেশেই এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে জানান তারা। কিন্তু, জামিন আবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেননি রুহুল আমিন।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের চরবাগ্গা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ করা হয়। ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ৩১ ডিসেম্বর চর জব্বার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
২ জানুয়ারি গভীর রাতে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনকে আটক করে পুলিশ। পরে ৪ জানুয়ারি এক জরুরি বৈঠকে রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এ মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজন মিলিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন