চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি
-
চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় অন্তত ৭০ জন মানুষ; আহত হয় অনেকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি ভবন, ক্ষতির শিকার হন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীও। মর্মান্তিক আগুনের ঘটনায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
আজ (শুক্রবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি প্রদান, কেমিক্যাল ও ধাহ্য পদার্থ নিরাপদে গুদামজাত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধসহ সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো এ ভবনের অনুমোদন দিয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে সরকারের নজর দিতে হবে।
একই ধরনের কথা বলেছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। তিনি বলেন, উন্নত দেশে নিরাপত্তা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হয়, যা আমাদের দেশে নেই। আমরা যেসব বাসাবাড়িতে থাকি, তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সচেতন নই। বাড়ি যখন তৈরি হয়, তখন ঠিকমতো নীতিমালা অনুসরণ করা হয় না। আর এসব তদারকির দায়িত্ব নিয়োজিত সংস্থাগুলোও যেভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না। ফলে একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
তার মতে, নিরাপত্তার জন্য মানুষের আচরন ও মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। সেইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ঠিকমতো কাজ করতে হবে। এছাড়া এ সংক্রান্ত যেসব আইন আছে, তার সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটাতে হবে। তা না হলে নিরাপদ নগরী গড়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করেন আবু নাসের খান।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৫