এবার শপথ নিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান
-
জাহিদুর রহমানকে শপথ পড়াচ্ছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–৩ (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নিয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টা ১০ মিনিটে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
শপথ নেয়ার পর এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘বিএনপির হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ নিরপরাধ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের জন্য আমি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাব যে আপনি দেখেন। কারণ, এইগুলোর বাদী হচ্ছে পুলিশ। পুলিশ যা করেছে, সব মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) লোক কোনো মামলা করেনি। কাজেই আপনার এটা দেখা উচিত। গণতন্ত্রের স্বার্থে সেইসব মামলা প্রত্যাহার করার আমি দাবি রাখব।’
জাহিদুর আরো বলেন, ‘সঙ্গে সঙ্গে আমার নেত্রীকে (বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া), এজন বয়স্ক মহিলা, ৭৩ বছর বয়স, উনাকে যেন গণতন্ত্রের স্বার্থে মুক্ত করে দেয়, এই আহ্বান আমি জানাব সংসদে। এটাই আমার প্রথম অঙ্গীকার।’
এদিকে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র বলেছেন, একজন ব্যক্তি যদি দলের সিদ্ধান্ত না মানেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক যে নিয়ম আছে, তা কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোট প্রতারণা করে যারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে, তারা গণদুশমন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। এছাড়া মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী (নৌকা) ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ (লাঙ্গল) ২৭ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে গণফোরামের মোকাব্বির খান ও সুলতান মো. মনসুদ আহমেদসহ নিয়ে ২৯৪ জন এ পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন।তবে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যেসব সংসদ সদস্য শপথগ্রহণ করেছেন, আইন অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ থাকবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোন দলের প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হলে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থাকতে হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তবে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সুলতান মনসুর, মোকাব্বির খান ও জাহিদুর রহমান দল থেকে পদত্যাগ করেননি। সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগও তাঁদের নেই। তবে তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদে যোগ দিলে এবং ওই অবস্থায় দল তাঁদের বহিষ্কার করলে পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৫