বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে: ফখরুল
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে চাপ রয়েছে। যেটা সব সময়ই থাকে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তারাই এই ধরনের চেষ্টা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।
আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর, এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিএনপি অটল আছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। দলের এই সিদ্ধান্ত যারা ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে দলের খুব বেশি ক্ষতি হয় না বলেই মনে করেন তিনি।
সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক বিষয় না। বরাবরই দল ভাঙার নানা প্রচেষ্টা হয়েছে এবং ভেঙেছে। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রচেষ্টা করে কখনও কোনও লাভ হয়নি। সব সময়ই ফিরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বমহিমায় জনগণের কাছে গেছে।
এদিকে, 'মধ্যরাতের নির্বাচন' করতেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ও আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্দোষ খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখার উদ্দেশ্যই ছিল মধ্যরাতে নির্বাচন করা। এই নির্বাচন ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক রাতের আঁধারে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার কাজ।
আজ (শুক্রবার) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী। সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন তিনি। মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশে অনাচার-অবিচার চরম মাত্রায় বেড়ে গেছে। রাষ্ট্র-সমাজে নৈরাজ্যের ব্যাপক বিস্তারে মানুষের জানমালের কোনও নিরাপত্তা নেই। ক্ষমতাসীন দলের লোক হলে তার সাতখুন মাফ আর বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার, তাদের ঠিকানা হয়েছে কারাগারে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৬