খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসন্ত্রাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের আদালতে মামলাজট কমাতে বিচার কাজের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসন্ত্রাসসহ গুরুতর অপরাধগুলোর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। আজ (রোববার) রাজধানীল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে; কারাগারে এখনো অনেকে আছে, তারা কী কারণে জেলে তা জানে না। তাদের দোষটা কী তাও তারা জানে না। কীভাবে আইনগত সহায়তা নিতে হবে তাও তারা জানে না। এ বিষয়টা বিশেষভাবে দেখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে আরও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা; ধর্ষণসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচার চলছে। এগুলোর বিচার যেন খুব দ্রুত হয় এবং কঠোর শাস্তি হয়। যাতে এর হাত থেকে দেশ জাতি রক্ষা পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিটি মানুষ ন্যায়বিচার পাক। বিচার না পেয়ে আমরা যেমন কেঁদেছি এমন যেন আর কেউ না কাঁদে। গণতন্ত্র না থাকলে যেমন আইনের শাসন সুষ্ঠু হয় না, তেমনি আইন না থাকলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যাতে আইন সম্পর্কে জানতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু জেলা নয়, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আইনি সহায়তা ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য প্রতিটি জেলায় জাতীয় আইনগত সহায়তা অফিস স্থাপনাসহ সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান শেখ হাসিনা।
এ সময়, নারী অধিকার নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে মেয়েদের সম্পত্তি দেয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা দিতে চান না। ভাইয়েরা বোনকে সম্পত্তির ভাগ দেন না। এটি শুধু নিম্নবিত্ত নয়, উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রেও ঘটে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং জনগণ মৌলিক অধিকার ভোগ করে নিজেরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারবেন।
তিনি জানান, বিগত ১০ বছরে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জনকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ সময়ে এ কার্যক্রমের আওতায় ১ লাখ ৬৬৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর গত চার বছরে প্রি-কেইস ও পোস্ট-কেইস মিলিয়ে ১৭ হাজার ৯২৯টি এডিআর বা আপোশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ এবং এরমধ্যে ১৬ হাজার ৫১৩ জন বিচারপ্রার্থী শান্তিপূর্ণভাবে আপস-মীমাংসার সুফল ভোগ করেছেন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৮