বিএনপি এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে মির্জা ফখরুল যা বললেন
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সংসদ ও সংসদের বাইরে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ (সোমবার) রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল পরিপ্রেক্ষিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমাদের দল সংসদে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনই ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আজ এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে, গোটা নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বরাবরের মতোই দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জনগণের সংসদ নির্বাচন করাই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। তাই একদিকে নতুন নির্বাচনের দাবি ও দেশনেত্রী খালেদ জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি, অন্যদিকে দেশের চলমান অর্থনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক চরম সংকট যথাক্রমে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, ব্যাংক লুট, নারী নির্যাতন, গুম-খুন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী জোড়ালো গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আমাদের নতুনভাবে উদ্দীপ্ত হতে হবে।
আপনি নিজে শপথ নেবেন কিনা অথবা আপনি স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, সেটা সময় হলেই জানতে পারবেন। শপথ নেয়ার পর বিএনপির বহিষ্কার হওয়া জাহিদুর রহমান জাহিদের বিষয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও তিনি বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। সেটি ছিল নির্বাচনের নামে প্রহসন। ওই নির্বাচনে দেশের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এরই মাঝে এটি সারা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’
বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি দেশবাসীকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ খালেদা জিয়া ঘোষিত জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে পারবে।’
এদিকে, সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন-উর-রশিদ। তিনি বলেন, ‘আজকে সারা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে উপজেলা নির্বাচন হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল বর্জন করেছে। আপনারাই প্রার্থী দিয়েছেন, আপনারাই বিরোধী প্রার্থী দিয়েছেন। তার পরও সেখানে পাঁচ পারসেন্ট লোকও ভোটকেন্দ্রে যায়নি। আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতের ফরমায়েশি রায়ে সাজাপ্রাপ্ত। সংসদ নেতা আপনার প্রতি আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করব উনি ৭৪ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা। উনি আজ হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন। উনার এ অবস্থায় জেলখানায় থাকার কথা নয়। অন্ততপক্ষে উনার জামিন পাওয়া উচিত। উচ্চ আদালতকে যদি আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন আপনার যারা নিয়োজিত অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন তারা যদি সত্যিকার অর্থে বাধাপ্রদান না করেন আমি বিশ্বাস করি উনি কালকেই জামিন পাবেন।’
আজ সোমবারই শপথগ্রহণ করেন হারুন-উর-রশিদ। শপথ নিয়েই সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আজ আরো শপথ নেন বিএনপির আমিনুল ইসলাম, উকিল আবদুস সাত্তার ও মোশাররফ হোসেন। গত বৃহস্পতিবার শপথ নেন বিএনপির জাহিদুর রহমান জাহিদ।#