জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপনারাও এগিয়ে আসুন: বিএনপির প্রতি নাসিম
-
মোহাম্মদ নাসিম
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জোটের ‘শান্তি সমাবেশ’ থেকে এ ঘোষণা দেন নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপির সাংসদদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে আমাদের একটাই আওয়াজ, একটাই স্লোগান শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ডের ঘটনাসহ এইসব জঘন্য সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। এদর কোনো ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, দেশ নেই, দল নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুশি হয়েছি—ধন্যবাদ জানাই বিএনপির বন্ধুদের। অনেক দেরিতে হলেও তারা সংসদে শপথ নিয়ে যোগদান করেছে। আমরা আহ্বান করব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপনারাও এগিয়ে আসুন। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন, সমর্থন করুন।’
সমাবেশে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জাতি ধর্ম সব ভুলে গিয়ে আমরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তেমনিভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্টপোষক, রাজনৈতিকভাবে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের প্রতিহত করতে হবে। এখনো ধর্মের মুখোশধারীরা, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, নারীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, জঙ্গি সন্ত্রাসীদের উসকানি দিচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার।’
সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হচ্ছে গণতন্ত্রের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা থাকবে, কিন্তু তেঁতুল তত্ত্ব থাকবে না। বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় থাকবে, মসজিদ-মন্দির থাকবে কিন্তু সাম্প্রদায়িক তৎপরতা থাকতে পারবে না। এটা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে, আমরা মুখোশধারীদের এক চুলও ছাড় দেব না। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে’
সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মসভার নামে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ওয়াজে নানা কথা বলা হয় যা মোবাইল খুললেই দেখা যায়। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দৃড়ভাবে ভুমিকা পালন করছেন। অথচ আমাদের প্রশাসনের ভিতর থেকে যে সহযোগিতাগুলো হচ্ছে এটা যদি নির্মূল করা না যায় তাহলে, জঙ্গিবাদকে কার্যকরভাবে দমন করা যাবে না। এছাড়া জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে, মানবতার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংসদ শফিকুর রহমান, লেখক আবুল মকসুদ, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুরসহ ১৪ দলের নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০